আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় চুরি অভিযোগে উত্তেজনা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলিবর্ষণ

আশুলিয়া ব্যুরো : আশুলিয়ায় এআর জিন্স প্রডিউসার লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানার সুপার ভাইজারের মানিব্যাগ চুরি যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক সুইং অপারেটরকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পরে। ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে কারখানার মালিকপক্ষের নির্দেশে সিকিউরিটির লোকজন কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা। পরে থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় কারখানাটি একদিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করে উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ রবিবার (১৫-৭-২০১৮) সকাল সোয়া ৮টায় আশুলিয়ার জিরাবো পুকুরপাড় এলাকার এআর জিন্স প্রডিউসার লিমিটেড নামে ডেনিম জিন্স প্যান্ট তৈরির কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে কারখানার শ্রমিকরা বলেন, শনিবার দুপুরে কারখানাটির সুপারভাইজার সবুজ আহমেদ শিমুল প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে টয়লেটে যান। এরপরপরই একই ফ্লোরের সুইং অপারেটর সেতু টয়লেটে যান। একটু পরে সুপারভাইজার এসে সেতুকে জানায়, টয়লেটে সে তার মানিব্যাগ ফেলে এসেছে। আর সে মানিব্যাগ সেতু নিয়েছে কিনা জানতে চায়? সেতু ওই মানিব্যাগ পায়নি বলে জানালে, তাদের মাঝে কথা কাটা-কাটি হয় এবং অপারেটর সেতুকে মারধর করে। এ বিষয় কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে সেতু ও তার কয়েকজন সহকর্মী শ্রমিক মানিব্যাগ না নেয়ার পরও সেতুকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এ অভিযোগের কোন সুরাহা না করে শ্রমিকদের ওপর মিথ্যা দোষারোপ করেন এবং কয়েকজন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ দেন।

রোববার সকালে শ্রমিকরা কারখানা গেটে গিয়ে দেখতে পান বরখাস্তের নোটিশ। এতে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে কারখানার অভ্যন্তরে বিক্ষোভের চেষ্টা চালায়। এসময় মালিকপক্ষের নির্দেশে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় শ্রমিকরাও কারখানার উৎপাদন বন্ধ রেখে চড়াও হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় ৫ শ্রমিক আহত হওয়ায় তাদেরকে নিকটস্থ ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ ঘটনায় কারখানার সিকিউরিটির ইনচার্জ কামাল হোসেনকে শ্রকিকরা মারধর করে। পরে সিকিউরিটির দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এ পরিস্থিতিতে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে শ্রমিকরা যার যার বাসায় চলে যায়।

এ বিষয়ে কারখানার জিএম আনোয়ার হোসেন বলেন, এআর জিন্স প্রডিউসার লিমিটেড কারখানায় প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক রয়েছে। কারখানার সুইং সেকশনের সুপারভাইজার সবুজ এর মানিব্যাগটি অপারেটর সেতু নিয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মারধরের সত্যতা তিনি স্বীকার করে বলেন, রোববার সকাল সোয়া ৮টায় শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশের পর উৎপাদন বন্ধ রেখে ভাংচুর চালায়। এসময় তাদের বাঁধা দিলে শ্রমিকরা কারখানার সিকিউরিটি ইনচার্জ কামালকে বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এ অবস্থায় কারখানা রোববার একদিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কারখানার নিরাপত্তাকর্মীরা ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছে। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ বা শ্রমিকদের পক্ষ হতে কোন অভিযোগ থানায় দায়ের করেনি এবং ঘটনায় কেউ আটকও হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতি রয়েছে।