আজ কোন দল জিতবে? জেনে নিন কি বলছেন মাশরাফি?

ফুলকি ডেস্ক: চার বছরের অপেক্ষার পর ৩২ দলের লড়াই। সেটাও শেষের পথে। শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে দুই দল। যারা আজ রাতে বিশ্ব জয়ের মিশনে মাঠে নামবে। কেউ বলছে ফ্রান্স আবার কেউ বলছে ক্রোয়েশিয়া।

এদিকে মাশরাফিও জানিয়েছেন তার মনে কথা। শুনুন তার মুখেই-

‘আমার মনেহয় ফ্রান্সের সমর্থনই বেশি। অনেকেই ফরাসিদের হাতে শিরোপা দেখতে পাচ্ছে। ফ্রান্সকেই ফেবারিট ধরা হচ্ছে। তবে হিসাব যাই থাক, আমার বাজি ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে।

আমার মনেহয় ফাইনালে কাউকেই ফেবারিট বলার সুযোগ নেই। ফাইনালে তো সবারই ভালো খেলার ইচ্ছা ও চেষ্টা থাকে। সবাই হয়তো ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখবে। তবে আমার কাছে মনে হয় ক্রোয়েশিয়াও খারাপ খেলবে না। যদিও ফাইনাল ম্যাচ কখনই সেভাবে ভালো হয় না। এক তরফা হয়ে যাওয়ার রেকর্ডই বেশি। ফাইনালের লড়াই বলে দুই দলের ওপরই অনেক চাপ থাকে। কেউ এক গোল দিয়ে ফেললে তখন একপেশে খেলা হয়ে যায়। ফাইনাল ম্যাচ সেভাবে জমে না।

এবার তেমন হবে না বলে আমার ধারণা। শিরোপা নিজেদের করে নিতে হলে পুরো ৯০ মিনিট এমনকি অতিরিক্ত মিনিটগুলোও ভালো খেলতে হবে। দুই দলই পুরো আসরে অপরাজিত। আজ জিতলেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করবে একটি দল। বলাই বাহুল্য, দুই দলের লক্ষ্যই অভিন্ন।

এই পথে ফ্রান্সের চেয়ে বেশি তেজতীপ্ত থাকবে প্রথম শিরোপার সন্ধানে থাকা ক্রোয়েশিয়া। তাদের কাছে এটা স্বপ্নের ফাইনাল, প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের হাতছানি। তবে এভাবেও ভাবার সুযোগ নেই যে, একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বলে ফ্রান্সের চেষ্টার কোনো ঘাটতি থাকবে। ফ্রান্সেরও তাড়া আছে। দুই বছর আগে ঘরের মাঠে ইউরোর ফাইনাল হেরেছে তারা। এবার বিশ্বকাপ ঘরে তুলে সব বেদনা ভুলিয়ে দিতে চাইবে জিনেদিন জিদান-দিদিয়ের দেশমের অনুজরা।

 

ফ্রান্সের গতি ক্রোয়েশিয়ার জন্য বড় হুমকি। ফরাসিরা যে গতিতে খেলে এসেছে, ফাইনলে সেটা খেলতে পারলে ক্রোয়েশিয়াকে বড় বিপদে পড়তে হবে। বিশেষ করে বলব এমবাপ্পের কথা। ফ্রান্সের তরুণ এই স্ট্রাইকারকে যতই দেখছি, ততই মুগ্ধ হচ্ছি। একে তো তার গতির সামনে দেয়াল তোলা খুব কঠিন, সঙ্গে তার পাস ও ড্রিবলিং দক্ষতাও যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্য হুমকিস্বরুপ। নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে হলে এমবাপ্পেকে নিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

তবে এখানেই শেষ নয়। এমবাপ্পেই কেবল হুমকি নয়। গ্রিজম্যানকেও ভালোভাবে মাথায় রাখতে হবে। এই বিশ্বকাপে সত্যিকারের প্লেমেকার হিসেবে দেখা গেছে তাকে। ফ্রি কিক থেকে শুরু করে তার বল বানিয়ে দেওয়ার দক্ষতা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। একইসঙ্গে জিরুড ও পগবাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে ক্রোয়েশিয়াকে। যদিও এরা দুজন পুরো আসরে তেমন কিছুই করতে পারেনি। কিন্তু ফাইনালেও তারা পারবে না, এভাবে ভাবার জায়গা নেই।

অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার প্রাণ দুজন ফুটবলার; লকুা মদ্রিচ ও ইভান রাকিটিচ। বরাবরের মতো এই দুজনকেই পথ দেখাতে হবে। তারা যেভাবে খেলে আসছে, এই ম্যাচে সেটা ধরে রাখতে পারলে ফ্রান্সও দিশা হারাবে। সঙ্গে যদি ইভান পেরিসিচ আগের ম্যাচের মতো জ্বলে উঠতে পারে তাহলে তো ক্রোয়েশিয়া অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া মানজুকিচেও ভরসা করার সুযোগ আছে তাদের। সব মিলিয়ে ফ্রান্স ফেবারিট হলেও আমি ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে।’