সন্ত্রাসবাদ দমনে জিরো টলারেন্স নীতির জন্য শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত: রাজনাথ

রাজশাহী সংবাদদাতা : জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ভারত বাংলাদেশের পাশে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছেন, ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সরকার শক্ত অবস্থানে রয়েছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছেন।’

শনিবার (১৪ জুলাই) বিকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে স্থাপিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী ভবন এবং আইটি সেন্টার উদ্বোধনকালে রাজনাথ সিং এসব কথা বলেন। এসময় বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদার অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান, ভারতীয় হাই-কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাজনাথ সিং বলেন, ‘বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ সম্পর্কের বর্তমান অবস্থাকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোনালি অধ্যায় বলে আখ্যায়িত করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত ভাষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে এক বিশেষ সম্পর্ক বহন করে। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী ভবনের নামই জানান দিচ্ছে আমাদের সম্পর্কের মূল সুর।’

রাজনাথ সিং বলেন, ‘আমি খুশি যে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য গৃহীত সহযোগিতামূলক কর্মসূচি ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে আমরা বাংলাদেশের ৬৮১ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। বাংলাদেশ চাইলে আমরা এ ব্যাপারে আরও সাহায্য করতে চাই এবং সেটা করতে পারলে খুশি হবো।’

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এবং আরও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী ভবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি কেবল ইতিহাসের সাক্ষীই নয়, ইতিহাস সৃষ্টিতেও অবদান রেখেছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটল থাকবে।’

তিন দিনের সফরে শুক্রবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।

বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের অর্থায়নে ২০১৭ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।  এটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ২৮ হাজার বর্গফুটবিশিষ্ট ভবনটির ৫৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।