মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে বেড়েছে রেমিট্যান্স

মোবাইলে হুন্ডি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ডলারের বিপরীতে বেশি টাকা পাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে বেড়েছে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। এর ধারাবাহিকতায় দেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

সদ্যসমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে এক হাজার ৪৯৮ কোটি রেমিট্যান্স ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে এসেছিল এক হাজার ২৭৭ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী আয় পাঠানোর শীর্ষে থাকা ১০ দেশের মধ্যে সতটিই মধ্যপ্রাচ্যের। এর মধ্যে সদ্যসমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি থেকে। সৌদি প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৫৯ কোটি ১৫ লাখ ডলার। যা মোট আহরিত রেমিট্যান্সের ১৭ শতাংশেরও বেশি এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২২৬ কোটি ৭২ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে সৌদি আরব ছাড়া অন্যগুলো হচ্ছে- আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ওমান, যুক্তরাজ্য, কাতার, ইতালি ও বাহরাইন।

২০১৭-১৮ অর্থবছর রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় শীর্ষে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটি থেকে গেল অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪২ কোটি ৮০ লাখ ডলার যা আহরিত রেমিট্যান্সের ১৬ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৯ কোটি ৭৪ লাখ ডলার যা মোট রেমিট্যান্সের ১৩ শতাংশ। আহরিত মোট রেমিট্যান্সের আট শতাংশ এসেছে মালয়েশিয়া থেকে। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১১৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার।

এ ছাড়া কুয়েত থেকে ১১০ কোটি ৭২ লাখ ডলার, ওমান থেকে ১১০ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, যুক্তরাজ্য থেকে ৯৫ কোটি ৮১ লাখ ডলার, কাতার থেকে ৮৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার, ইতালি থেকে ৬৬ কোটি ২২ লাখ ডলার এবং বাহরাইন থেকে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ৫৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার।