নির্বাচন কমিশন তিন মাস পরে আবারও পরিচয়পত্র বিতরণ

সঠিক ভাবে লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) উপাদনে ব্যর্থ হওয়ায় স্মার্ট টেকনোলজিস বিডির মুদ্রণ করা কার্ড নেবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন করে কার্ড মুদ্রণ করে তিন মাসের মধ্যে দেশের কোটি নাগরিককে আবারও কার্ড দেয়া শুরু করবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

ইসি সূত্র জানায়, ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও বিভিন্ন সময় নিবন্ধিত নতুন ভোটারদের লেমেনেটিং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের বিষয়ে সাম্প্রতিক এক সভায় জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচলক জানান, ভোটারদেরকে লেমেনেটিং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের জন্য তা মুদ্রণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। মুদ্রণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানির কর্তৃক মুদ্রিত কার্ড নিম্নমানের হওয়ায় তা গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে নতুন ভাবে কার্ড মুদ্রণ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা নতুন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে পারি। সব ঠিক থাকলে আগামী তিন মাসের মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন করে বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হতে পারে।

নির্বাচন কর্মকর্তরা জানান, গত ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের কোটি নতুন ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস বিডি সঠিকভাবে লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র উৎপাদনে ব্যর্থ হওয়ায় ইসি প্রতিশ্রুতি রাখতে পারছে না। এ কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস বিডি সঙ্গে ওইসব কার্ড নেয়ার চুক্তি বাতিল করা হয়।

গত ১৮ জানুয়ারি কমিশন সভা শেষে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংকালে কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘২০১২ সালে যারা ভোটার হয়েছেন এবং এখনও কোনও জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি, ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদেরকে লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। ২০১২ সালের পরে নিবন্ধিত নতুন এসব ভোটারকে স্মার্টকার্ড দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও তা প্রস্তুত করা নিয়ে জটিলতায় একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে স্মার্ট কার্ড দিচ্ছি না। এজন্য কমিশন সভায় দেশের এই নতুন ভোটারদের লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) দিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭ সালের নভেম্বরে স্মার্ট টেকনোলজিস বিডি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক ভাবে ৯৩ লাখ লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র উপাদনের জন্য ৮ কোটি ৯৬ লাখ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী গত ফেব্রুয়ারি থেকে লেমিনেটেড কার্ড ইসির কাছে সরবরাহ করার কথা প্রতিষ্ঠানটির। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত কার্ড অতি নিম্নমানের। কার্ড তৈরির কাগজে ময়লার দাগ পাওয়া যায়। প্রিন্টের মানও খারাপ। ইসির অভ্যন্তরীণ তদন্তে কার্ড প্রিন্টে প্রতিষ্ঠানটির খামখেয়ালিপনার প্রমাণ মিলেছে। এ কারণে ইসি তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, প্রতিষ্ঠানটির কাজ পাওয়ার পর অনেক কম্পিউটারের দোকানে সাব কন্ট্রাক্টে তা ভাগ করে দেয়। এমনকি রাজধানীর কয়েকটি বস্তিতে এই কার্ড ছেঁড়া-ফাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে।