গত অর্থবছরে ৪৩ হাজার কেজি পোস্টার অপসারণ করেছে ডিএনসিসি

সদ্য সমাপ্ত (২০১৭-১৮) অর্থবছরে দুই লাখ ১৬ হাজার পোস্টার, ব্যানার, বিল বোর্ড ও ফেস্টুন অপসারণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। পোস্টারগুলোর মোট ওজনে প্রায় ৪৩ হাজার ২১৬ কেজি। এগুলো অপসারণ করতে ৪৩ হাজার ম্যান পাওয়ার (প্রতিজন এক ঘন্টা কাজ করে) কাজ করে এগুলো পরিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে। ডিএনসিসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পোস্টার, দেয়াল লিখন, বিল বোর্ডে অপসারণ করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৫২১টি। এগুলো ওজন ছিলো ৪৬ হাজার ৭৫৩ কেজি। পোস্টারগুলো অপসারণ করতে ৩০ হাজার ৩০০ ম্যান পাওয়ার কর্মঘন্টা কাজ করতে হয়েছে। ওই অর্থবছরে পোস্টার, দেয়াল লিখন ও বিল বোর্ডেও জন্য ৩৬টি প্রতিষ্ঠানকে মামলা করে ১৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিলো।

ডিএনসিসির এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছে, প্রায়ত মেয়র আনিসুল হক থাকতে পোস্টার, দেয়াল লিখন, বিল বোর্ড ও ফেস্টুন মুক্ত রাখতে ডিএনসিসি কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলো। এবং প্রতিটি পদক্ষেপেই সিটির কর্মকর্তারা সফল হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমানে পোস্টার, দেয়াল লিখন ও বিল বোর্ড অপসারণে উদ্যোগ নিলেও কোন কাজ হয় না। তবে এ কাজটি কঠিন হলেও এটি সহজে করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সচেতন হলেই একটি পরিবেশ বান্ধব নগরী গড়া সম্ভব বলে জানান তিনি।

ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এম এ রাজ্জাক আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া পোস্টার, বিল বোর্ড ও দেয়াল লিখন বন্ধ করা সম্ভব নয়। আমরা প্রতি বছরই ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান করে মামলা ও জরিমানা করছি। বড় বড় কোম্পানিগুলোর সদিচ্ছ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সচেতনতাই পারে প্রতিযোগিতমূলক এ কাজটি বন্ধ করতে। তবে ধারাবাহিক উচ্ছেদ ও মামলার ফলে আগের থেকে প্রাইভেট বিজ্ঞাপনের পোস্টার কমেছে। তাছাড়া ব্যানার ও পোস্টার নগরীর জন্য ক্ষতিকর। এগুলো শুধু দেখতেই দৃষ্টি কটু নয়, পরিবেশের জন্যও মারাত্বক ঝুঁকি। অনেক ব্যানার আছে এগুলো পলিথিনের থেকেও বেশি ক্ষতি করে।

তিনি বলেন, বিজ্ঞাপনের জন্য ডিএনসিসির মধ্যে আটটি নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচিত করে রেখেছি। কেউ চাইলেই নির্দিষ্ট স্থানে বিজ্ঞাপন দিতে পারে। তাছাড়া আরেকভাবে আমরা এগুলো কমাতে পারি, সেটি হলো যেসব কোম্পানি অধিক পোস্টার ও বিল বোর্ড শো করবে তাদের পণ্য ও সেবা আমরা বর্জন করতে পারি। তাহলেই নগরী পরিচ্ছন্ন থাকবে।