সিংগাইরে কালিগঙ্গা নদীর ভাঙ্গণের কবলে বাজার ও পাকা সড়ক

মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ চারিগ্রাম দিয়ে বয়ে যাওয়া কালিগঙ্গা নদী ভাঙ্গনের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে শত বর্ষের পুরোনো দক্ষিন  চারিগ্রাম (বড়াটিয়া) বাজার ও সিংগাইর নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কসহ বেশ কিছু বাড়ি-ঘর ও ফসলিজমি।

নদীটির ওই এলাকায় প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বর্ষা মৌসুমে তীব্র ভাঙ্গন চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে বাজারের ব্যবসা  প্রতিষ্ঠানসহ আশ-পাশের শতাধিক পরিবার।  ভাঙ্গন রোধ-কল্পে এলাকাবাসির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডে লিখিত আবেদন করেলেও এ যাবৎ কোন কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে দক্ষিন চারিগ্রাম বড়াটিয়া বাজারের পশ্চিম প্রান্ত থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙ্গন প্রকট আকার ধারণ করেছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিগত ১০-১২ বছর ধরে অব্যাহত ভাবেই ফসলি জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসত বাড়িসহ গাছ পালা নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে।

 দক্ষিণ চারিগ্রাম বাজারের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা ঘাটলাসহ ৫০-৬০টি দোকানঘর নদী গর্ভে চলে গেছে। তীরবর্তী কয়েক শ বিঘা জমিসহ ৬০-৭০ টি বাড়ি ইতিমধ্যেই বিলিন হয়ে গেছে। বাজারে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটিও ভেঙ্গে পড়েছে কয়েকদিন আগে।

 যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে ওই বাজারের ব্যবসায়িরা আর্থিক ক্ষতিসহ ভাঙ্গন আতংঙ্কে রয়েছেন। ভাঙ্গনের খুব কাছাকাছি বাড়ির বাসিন্দা ৮৫ বছরের বৃদ্ধা জবেদা খাতুন বলেন, এটা আমার শশুর বাড়ি। ৭০ বছর আগে আমি এই গ্রামে বৌ হয়ে এসেছি।

তখন আমাদের বাড়ির দক্ষিণে প্রায় ৭০-৮০ টি পরিবারের একটি গ্রাম ছিল। পাশেই ছিল অনেক ফসলি জমি। প্রতি বছরই নিজের চোখে দেখলাম ওইসব বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি নদীর বুকে চলে যেতে। এখানে মাত্র ৩ টি বাড়ি অবশিষ্ট আছে।

ভাঙ্গনের ফলে নদীও প্রায় বাড়ির কাছে চলে এসেছে। কখন যেন তাদের বাড়িটে নদী গর্ভে চলে যায় এমনিটি আশংকা করেন বৃদ্ধা। অনুরুপ মন্তব্য করেন, লিটন মিয়া (৪২), আব্দুল খালেক (৭০), মোশাররফ হোসেন (৪৮), শহিদ ও তোতা মিয়াসহ অনেকেই।

দক্ষিণ চারিগ্রাম (বড়াটিয়া) বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক ও চারিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ বলেন, আমাদের শত বছরের পুরানো বাজারের অবশিষ্ট অংশ, ভাঙ্গন কবলিত জনপদ ও পাকাসড়ক রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন সময় মানববন্ধনসহ জেলা উপজেলা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে লিখিত আবেদন করেছি।

যার প্রেক্ষিতে ৩-৪ মাস আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম সরেজমিনে এসে প্রতিকারের আশ্বাস দিয়ে গেছেন। এবারের বর্ষায় ভাঙ্গন শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত প্রতিরোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড মানিকগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, কালিগঙ্গা নদীর দক্ষিন চারিগ্রাম এলাকার ভাঙ্গনের বিষয়টি আমরা অবগত। এমপি মহোদয় ডিও লেটার দিলে ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথে আমার কথা হয়েছে। তারা ফরমেট তেরি করে দিলে আমি ডিও লেটার দিয়ে দিবো।