বিএনপির ভিতরে এবং বাইরে চক্রান্ত হচ্ছে: মির্জা আব্বাস

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশের ভিতরে, দেশের বাইরে এমনকি বিএনপি’র ভিতরে এবং বিএনপির বাইরে একটা চক্রান্ত হচ্ছে। যাতে করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেলে থেকে বের হতে পারে। এবং এই দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কেউ কথা না বলতে পারে।

শুক্রবার (১৩জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে সুলতান সালাউদ্দিন টুটু’র নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, যারা একটা সময় ভেবেছিল জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর বিএনপি ধ্বংস হয়ে যাবে। আজকে যারা বিএনপির মাঝে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে, আমি তাদের বলব সেই সময় চলে গেছে। আমরা আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো, তারেক রহমান দেশে ফিরবেন এবং আমরাই দেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্টা করবো। বিএনপি’র খোর খাওয়া নেতাকর্মী কখনো বেঈমানি করবে না।

বএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের এই দলটাকে দুর্বল করার জন্য বেশ কিছু প্রক্রিয়া কাজ করছে। তবে সেই প্রক্রিয়া যেন কাজ না করতে পারে সেদিকে যুবদলকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের কিছু ব্যর্থ নেতাকর্মী রয়েছে যারা নেতৃত্ব চাই কিন্তু নেতৃত্ব দিতে পারে না। নেতাকর্মীদের বলব যারা ক্ষমতায় থাকার লোভ আছে তারা দেশকে ভালোবেসে ক্ষমতায় থাকুন আমাদের কোন আপত্তি নেই।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার যুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেনি। তারা আজ ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। এদেশকে পরাধীন করার চেষ্টা করছে।

আমরা এরশাদবিরোধী আন্দোলন করেছি, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, ৯০ থেকে ২০০১সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। বিশেষ করে ৯০এর আমাদেরকে এই যুবদলকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। তখন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছি। কারণ তখন সাহায্য না করলে এই সরকারের পরিবর্তন ঘটতো না। যদিও এখানে খুব ছোট্ট একটা স্বার্থের গন্ধ আছে। যদি আমরা সেই স্বার্থ নিয়ে মাথা ঘামায় নাই। তখন আমরা কেউ পদএবং নাম নিয়ে ভাবি নাই। আমরা সরকার পতনের চেষ্টা করেছি। আজ আপনাদের তাই করতে হবে। বিএনপির এই নেতা বলেন, আমাদের দেশে জেলখানায় ৩৫ হাজার বন্দি রাখা যাবে সেখানে ৮৫ হাজার বন্দী রাখা হয়েছে কেউ বলছে ৯৫, এতে বুঝা যায় কিছুদিন পর পুলিশ চাইলেও আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না। কারণ জেলে আমাদের জেলখানায় কোন জায়গা নাই।

তিনি বলেন,এই জেলখানায় বন্দি শুধু বিএনপি নেতাকর্মী হবেনা। আওয়ামী লীগ হবেন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও হবেন। আজকে বেগম খালেদা জিয়া শুধু জেলে নয় গোটা বাংলাদেশ আজকে কারাগার বন্দী। নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে মির্জা আব্বাস বলেন, আগের নির্বাচনগুলোর সুষ্ঠু হয়নি। এবার ৩ সিটি নির্বাচনের কার্যকলাপ দেখবো। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু না হয় আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা দ্বিতীয়বার ভাববো। তিনি বলেন, যারা বিএনপি নির্বাচনে যাবে ননা তাদের উদ্দেশ করে বলতে চাই।দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে আসবেন। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন। তারপর আমরা নির্বাচনে যাবো।

প্রতিবাদ সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন,রেজাউল কবীর পল।

সঞ্চালক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ।

এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান -উল্লাহ-আমান,ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধূরী এ্যানি, ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশরাফ, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু,যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান।