মাদকসেবীদের তালিকায় এবার পুলিশের নাম

ফুলকি ডেস্ক  : বাংলাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে সারাদেশে বহু মানুষ নিহত হয়েছে এবং আটকও হয়েছে অনেক। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযানে দেশে এখনও থেমে নেই মাদক ব্যবসা। কিন্তু এতো অভিযান, এতো ধরপাকড়ের পরেও কেন থামছে না এই মাদক ব্যবসা? কি কারণ রয়েছে এর পেছনে? তাহলে কি সর্ষের মধ্যেই ভূত রয়েছে?

গবেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনেকের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই দৃশ্যমান হচ্ছে না।

সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে প্রথমে নিজেদের মাদকমুক্ত হতে হবে।সর্ষের মধ্যে ভূত রেখে মাদক নির্মূল করা যাবে না। আর তাইতো এবার মাদক অভিযান জোরদারের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদস্যদের মধ্যে যারা মাদকাসক্ত রয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাদের নামের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।

তালিকা ধরে প্রথমে তাদের সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। তারপরও যদি মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যরা সংশোধন না হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন কমিশনার। বৃহস্পতিবার ডিএমপি সদর দফতরে মাসিক অপরাধ সভায় এ নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত করতে হলে প্রথমে নিজেদের মাদকমুক্ত করতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য মাদক সেবন কিংবা মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কমিশনার বলেন, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যারা মাদকাসক্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাদের নামের তালিকা তৈরি করতে হবে। তাদের সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংশোধন হলে ভালো, আর না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ছাড় দেয়া হবে না। আর কোনো পুলিশ সদস্য যদি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে।