ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কর্নেল অলির গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

কুমিল্লা সংবাদদাতা : কুমিল্লার চান্দিনায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির-এলডিপি’র সভাপতি ড. কর্নেল অলি আহাম্মদ (অব.) বীরবিক্রমের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার চান্দিনা থানা থেকে তিনশ’ গজের মধ্যে চান্দিনা পাইলট স্কুল খেলার মাঠ সংলগ্ন সড়কে এই ঘটনা ঘটে। চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস-২ এ নব-নির্মিত মমতাজ আহমেদ ভবনের উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ গ্রহণ করতে যাওয়ার পথে দুষ্কৃতকারীরা তার গাড়িতে হামলা চালিয়ে ইট-পাটকেল ছোঁড়ে। এতে তাকে বহনকারী পাজেরো গাড়ির (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৩-৪৬৪৬) পেছনের গ্লাস ভেঙে যায়। তবে ড. কর্নেল (অব.)অলি আহাম্মদ অক্ষত রয়েছেন।

এদিকে অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি বিষোদ্গার করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির-এলডিপি’র সভাপতি ড. কর্নেল অলি আহাম্মদ। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, পুলিশের সামনে মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা হামলা করবে, এজন্য এ দেশকে স্বাধীন করিনি। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি, আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ জানাই। যার কর্মীরা মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করতে চায়! পুলিশ ও ইউএনও অফিসের পাশে, আগে-পেছনে একাধিক পুলিশ অফিসার এমনকি ওসির উপস্থিতিতে এধরনের হামলা আমি কল্পনাও করতে পারিনা। তারা দেশের ক্ষতি করেছে, আওয়ামী লীগের ক্ষতি করেছে।

বিকেলে চান্দিনা পৌর এলডিপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন বন্ধ করে দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের সভা, সমাবেশের জন্য ইউএনও, ওসির অনুমতি নিতে হবে কেন। এটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। হামলার প্রসঙ্গ টেনে হামলার সময় চান্দিনা থানার ওসির নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজ প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির-এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, কলেজের আজীবন দাতা সদস্য মিসেস মমতাজ আহমেদ, পরিচালনা পর্ষদ সদস্য সুলতান মঈন আহামেদ রবীন।

এব্যাপারে চান্দিনা উপজেলার আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীদের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে কাউকে পাওয়া যায়নি। চান্দিনা থানার ওসি মোহাম্মদ সামছুল ইসলাম জানান, কর্নেল অলি আহমদের গাড়ি বহরে হামলা বা ভাঙচুরের কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে শুনেছি রেদোয়ান আহমেদ কলেজে যাওয়ার সময় কে বা কারা পেছন থেকে ঢিল মেরেছে। এতে গাড়ির একটি গ্লাস ভেঙে গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।