চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ১৩

স্টাফ রিপোর্টার : চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারকচক্রের ১৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট। বুধবার (১১ জুলাই) রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সিআইডি সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মোল্যা নজরুল ইসলাম।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. আদনান তালুকদার ওরফে আল আমিন (৪০), খন্দকার মো. আলমগীর হোসেন ওরফে মাসুম (৪৩), জহুরুল হক (৪২), সৈয়দ শাহরিয়ার সোহাগ (৩২), খালেদ মাহমুদ (৩২), রহমত উল্লাহ (২১), হাফিজুর রহমান (২৯), ইনছান আলী (৩৭), সিরাজুল ইসলাম (৩৫), নাদিম উদ্দিন (৩১), মেহেদি হাসান (২১), হানিফ কাজী (৪৫) ও মামুনুর রশিদ (৩৮)।

০এসএসপি মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, বুধবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতারকচক্রের ১৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে লোভনীয় বেতনে উচ্চপদে চাকরি দেওয়ার নামে শত শত মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। চাকরির আবেদনকারীদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য তারা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে রাজধানীতে অফিস খোলার পর আকর্ষণীয় ডেকোরেশন করে।

একই সঙ্গে তারা কোম্পানির ওয়েবসাইট চালু করে এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারণা চালায়। এরপর আগ্রহীরা যোগাযোগ করলে তাদের ইন্টারভিউ নেওয়ার নাটক করে সবাইকে চাকরি দেয়। এরপর তাদের কাছ থেকে সিকিউরিটি মানি বাবদ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে নির্ধারিত তারিখে তারা অফিসে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।

সিআইডি কর্মকর্তাদের ব্রিফিং

এসএসপি বলেন, ২০১৩ সাল থেকেই চক্রটি ফরচুন গ্রুপ অব কোম্পানি, রেক্সন গ্রুপ অব কোম্পানি, ম্যাক্স ভিশন গ্রুপ অব কোম্পানি নামে শত শত মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এই চক্রের মূলহোতা আল আমিন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

তিনি বলেন, এই চক্রটি মূলত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের টার্গেট করে। চক্রটি তিন-চার মাস পর পর তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। বিভিন্ন নামে অফিস খুলে চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে তারা।

তিনি আরও বলেন, এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতারণার দায়ে ৮টি মামলা পাওয়া গেছে। এর আগে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার দায়ে র‌্যাব তাদের গ্রেফতার হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে এবং মানি লন্ডারিং আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।