সাভারের হল-মার্কের চেয়ারম্যান জেসমিনের ৩ বছর সশ্রমকারাদন্ড

স্টাফ রিপোর্টার : সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় সাভারের হল-মার্কের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের বিরুদ্ধে ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার (১১-০৭-২০১৮) ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

একই সঙ্গে তাকে ২০ লাখ টাকা অর্থদন্ড এবং এ অর্থ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে জেসমিনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘দুনীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬ (২) ধারায় জেসমিন ইসলামকে একমাত্র আসামি করে তার বিরুদ্ধে গত ২০১৬ সালে ২ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালত ৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এ রায় দেন।’

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুরের হলমার্কের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামকে ৭ দিনের মধ্যে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করতে নির্দেশ দেয় দুদক।

দুদকের নোটিস পেয়ে আসামি জেসমিন তার আইনজীবী আফাজুল হকের মাধ্যমে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিলের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন। দুদক আরও ৭ দিন সময় বাড়িয়ে দেন।

কিন্তু এরপরও জেসমিন আদালতে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় দুদকের উপ-সহকারীপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদিন ঢাকার রমনা থানায় বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে গত ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ওই মামলায় ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ জেসমিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আগাম জামিন দেন। এতে স্থগিতাদেশ চেয়ে দুদক ২৭ জানুয়ারি চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করে। শুনানি নিয়ে ২৯ জানুয়ারি চেম্বার বিচারপতি বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।

পরে জামিন মঞ্জুর করে দেয়া আদেশ বাতিল করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে নিম্নআদালতে মামলা চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়। ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জেসমিনের বিরদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। তিনি সে সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। পরবর্তীতে মামলার সাত সাক্ষীর মধ্যে ছয়জনের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত বুধবার এ আদেশ দেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, হল-মার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম জনতা ব্যাংক ভবন কর্পোরেট শাখা থেকে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ৮৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।