মোবাইল ব্যাংকিং এ দক্ষিণ এশিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদন: বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরেই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম। শুধু তাই নয়, মোবাইল ব্যাংকিং কর্মসূচির প্রসারে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। গ্লোবাল ফিনডেক্স সূচক-২০১৭ তে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক পরিক্রমা জুলাই-২০১৮ সংখ্যায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

ব্যাংক পরিক্রমার চলতি সংখ্যায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবার আওতায় আনার মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত গ্লোবাল ফিনডেক্স সূচক-২০১৭ এ উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবধারীর সংখ্যা ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবধারীর সংখ্যা যেখানে ছিল মাত্র ৩ শতাংশ   তিন বছরের ব্যাবধানে ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ শতাংশে।

এর আগে ২০১৪ সালে মোবাইল ব্যাংকিং প্রসারে ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অ্যালায়েন্স ফর ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন পলিসি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

অ্যালায়েন্স ফর ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক রেগুলেটরদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন, যেটি বিশ্বব্যাপী আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ জোরদার করার জন্য কাজ করছে। ওই সময় বাংলাদেশে ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ২০০৯ সালে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর হিসেবে যোগদানের পর থেকেই আর্থিক সেবার বাইরে থাকা জনসাধারণকে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেন। তিনি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে প্রথমে গরিব কৃষকদের দশ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দেন।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, প্রতিদিনই বাড়ছে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বর্তমানে দৈনিক গড় লেনদেন হচ্ছে হাজার কোটি টাকার ওপরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ (মার্চ পর্যন্ত) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিয়ের নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ৬ কোটি এক লাখ ৫২ হাজার। এর মধ্যে সক্রিয় গ্রাহক রয়েছে দুই কোটি দুই লাখ ৬২ হাজার। এসব গ্রাহক প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ১১ কোটি টাকা লেনদেন করেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট সংখ্যা আট লাখ চার হাজার ৬১০ জন।

জানা গেছে, সুবিধাবঞ্চিতদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং চালুর অনুমতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরের বছর পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু হয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মোবাইল অপারেটরভিত্তিক হলেও বাংলাদেশে এ সেবা ব্যাংকভিত্তিক। ব্যাংকগুলো বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এ সেবা দিচ্ছে। দেশের বর্তমানে ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে ২৯টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন নিয়েছে। তবে বর্তমানে কার্যক্রম আছে ১৮টি ব্যাংকের। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রথম এ সেবা চালু করলেও এখন সবচেয়ে এগিয়ে আছে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ।