আমি একজন দরবেশ মানুষ, এরাই আমাকে জামায়াত বানিয়েছে : আল মাহমুদ

ফুলকি ডেস্ক: ‘দেখেন আমি কোনো দিন এবং অতিতেও জামায়াত পন্থী ছিলাম না। আমি একজন দরবেশ মানুষ। এরাই আমাকে জামায়াত বানিয়েছে।’

এক অনলাইন পত্রিকায় একান্ত সাক্ষাতকার দেয়ার সময় এমনটাই জানিয়েছেন দেশের বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ। এসময় এরাই বলতে তিনি কাদেরকে বুছিয়েছেন তা ব্যাখ্যা করনেনি।

তিনি বলেন, দেখেন আমি কোনো দিন এবং অতিতেও জামায়াত পন্থী ছিলাম না। এরা আমাকে জামায়াত বানিয়েছে। এবং যারা বানিয়েছ তারা তো দৈত্য বানিয়েছে। এখন দৈত্য তারা সামাল দিতে পারে না। জামাতী কাউকে আমি চিনতামই না। কিন্তু আমার যারা ক্ষতি করতে চেয়েছিলো তারা এটা করেছিলো। আর আপনাকে আমার বলতে কোনো দ্বিধা নাই, তারা কিন্তু নাই। আমি কিন্তু আছি। কারণ আমি তো সাহিত্য করি। আমি কবিতা লিখি, গল্প উপন্যাস লিখি, আমাকে তো গুলি করে মারা যায় না। গুলি করে মারলেও আমি সাহিত্যে থাকবো। না মারলেও থাকবো।

তিনি আরো বলেন, আমি কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে ধর্মে বিশ্বাস করি। যদিও আমি আনুষ্ঠানিক ভাবে সেটা করি না। আমি কিছু চাইলেই আল্লাহর কাছে চাই। লোকে বলে আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ কি শুনতে পায়? কিন্তু আমার কেনো যেন মনে হয় তিনি কথা বলেন।

এসময় তিনি আরো বলেন, ‘আমি একজন কবি আমি রাজনৈতিক নেতা নই। আমি সোজা সরল মানুষ। আপনি যদি আমাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসেন আমিও আপনাকে হৃদয় দিয়েই ভালোবাসবো। আপনার সঙ্গে আমার বিনিময় হবে।’

১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কবি আল মাহমুদ। তাঁর প্রকৃত নাম মীর আব্দুস শুকুর আল মাহমুদ। আজ ১১ জুলাই এই কবি ৮১ বছরে পা দিলেন।

এক নজরে আল মাহমুদ

 জন্ম : ১১ জুলাই, ১৯৩৬, মোল্লাবাড়ি, মৌড়াইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। পিতা : আব্দুর রব মীর। মা : রৌশন আরা বেগম। স্ত্রী : সৈয়দা নাদিরা বেগম। পুত্রকন্যা : পাঁচ পুত্র, তিন কন্যা। পেশা : অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ কবিতা : লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, প্রহরান্তরের পাশ ফেরা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, মিথ্যেবাদী রাখাল, আমি দূরগামী, বখতিয়ারের ঘোড়া, দ্বিতীয় ভাঙন, নদীর ভেতরে নদী, উড়াল কাব্য, বিরামপুরের যাত্রী, না কোন শূন্যতা মানি না প্রভৃতি। ছোটগল্প : পান কৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিত, গন্ধবনিক, ময়ূরীর মুখ প্রভৃতি। উপন্যাস : কাবিলের বোন, উপমহাদেশ, পুরুষ সুন্দর, চেহারার চতুরঙ্গ, আগুনের মেয়ে, নিশিন্দা নারী প্রভৃতি। শিশুতোষ : পাখির কাছে ফুলের কাছে। প্রবন্ধ : কবির আত্মবিশ্বাস, কবির সৃজন বেদন., আল মাহমুদের প্রবন্ধ সমগ্র। ভ্রমণ : কবিতার জন্য বহুদূর, কবিতার জন্য সাত সমুদ্র প্রভৃতি৷ এছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে আল মাহমুদ রচনাবলী। পুরস্কার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৮), জয়বাংলা পুরস্কার (১৯৭২), হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৪), জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পুরষ্কার (১৯৭৪), সুফী মোতাহের হোসেন সাহিত্য স্বর্ণপদক (১৯৭৬), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬), একুশে পদক (১৯৮৭),নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৯০), সমান্তরাল (ভারত) কর্তৃক ভানুসিংহ সম্মাননা পদক- ২০০৪ প্রভৃতি।