দিনমজুর থেকেও কম আমাদের বেতন: গণস্বাস্থ্যে আন্দোলনরত ইন্টার্ণ চিকিৎসকেরা

স্টাফ রিপোর্টার : সাভারের গণস্বাস্থ্য মেডিকেলে ৬ষ্ঠ দিনের মত ছয়দফা দাবিতে আন্দোলন অব্যহত রেখেছে টিএমও ও  ইন্টার্ণ চিকিৎকেরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোমবার সকাল থেকে কর্মসূচী পালন শুরু করে আন্দোলনকারীরা। বিকালে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ ফরিদা আদিব খানম, গণস্বাস্থ্যের সমন্বয়ক ডাঃ মনজুর কাদের, চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ডাঃ এ.কে খান, ইন্টার্ন কো-অর্ডিনেটর ডাঃ রেজাউল হককে অবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা হাসপাতালের ফ্লোরে বসে দাবী সমূহ দ্রুত মেনে নিতে বিভিন্ন ধরণের শ্লোগান দিতে থাকে।

 

দিনমজুর থেকেও কম আমাদের বেতন: গণস্বাস্থ্যে আন্দোলনরত ইন্টার্ণ চিকিৎসকেরা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সকল টি.এম.ও দের বেতন ২২০০০ টাকা, ইন্টার্নশীপভাতা ১৫০০০ টাকাসহ ছয়টি দাবি যেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেনে নেন। তার জন্য আমরা গত কয়দিন আন্দোলন করে আসছি। মঙ্গলবার সকাল থেকে না খেয়ে আমরা এখানে অবস্থান করছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের কোন দাবি মেনে নিচ্ছে না।

এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইন্টার্ণ চিকিৎসক বলেন, একজন দিনমজুর থেকে আমরা কম টাকা পাই। এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। আমাদের পরিবারের আমাদের প্রতি একটা আশা থাকে যা। আমরা পূরণ করতে পারি না।’

জানতে চাইলে অবরুদ্ধ গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রের সমন্বয়ক ডাঃ মনজুর কাদের জানান ইন্টার্ন ও টি.এম.ও দের দাবি পূরণ করার ক্ষমতা আমি রাখি না। কারণ আমি এই দায়িত্বে নেই। এ ব্যাপারে ভিসি, রেজিস্ট্রারসহ সকলের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সোমবার সন্ধ্যা ৭ টায় পরবর্তী দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত করলে মেডিকেলের কর্মকর্তারা বেড়িয়ে যান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সব সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা হিসেবে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়। কিন্তু গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র এর ব্যতিক্রম।

মাসিক ভাতা দেয়া হয় প্রথম ছয়মাস ৮ হাজার টাকা এবং পরের ছয়মাস ৯ হাজার টাকা। এ টাকা থেকে হোস্টেলে থাকা-খাওয়া বাবদ বাধ্যতামূলকভাবে সাড়ে ৩ হাজার টাকা কেটে রাখা হয়।