উপবৃত্তি, বিনাবেতন পড়ার সুযোগ বন্ধ, বিপাকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

স্টাফ রিপোর্টার : গরিব শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া, ছাত্রীদের বাল্যবিবাহ, মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করা, উপজেলাসমূহে শিক্ষার সমান সুযোগ বাড়ানো, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ, পাবলিক পরীক্ষায় বিনামূল্যে ফরম পূরণের ভর্তুকি, বিনামূল্যে বইপত্র প্রদান, সাধারণ উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন খাতে শিক্ষা উন্নয়নের উদ্দেশ্যে সরকারের সেকায়েপ প্রকল্পের অধীনে ২১৫ উপজেলার প্রায় ৩১৫৫০৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থী, ৩৮৬৩৭৬ শিক্ষার্থী, ৫৯৩৪ শিক্ষক, ১০০৮৮ প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৩৪০ কোটি টাকা অনুদান দিয়ে আসছিলো।

জুলাই-২০০৮ থেকে শুরু হওয়া সেকায়েপ প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর-২০১৭ তে শেষ হয়ে গেলে হঠাৎই সুযোগ সুবিধা বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা । বিভীন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ঘুরে জানা গেছে, সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি একসেস এন্ড এনহ্যান্সমেন্ট প্রকল্প (সেকায়েপ) এর অধীনস্থ প্রায় ১৬ লাখ শিক্ষার্থীর বিপরীতে গত জানুয়ারি-জুনের কিস্তির উপবৃত্তির টাকা দেয়া হয়নি । এদিকে, মেয়াদ শেষে এই উপবৃত্তির কি হবে? টিউশন ফি’র কি হবে? সেসব নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত না আসায় কোন নির্দেশনা না পাওয়ায়, বরাদ্দকৃত অর্থ না পাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে অর্থ দাবি করা শুরু করেছে বলে জানান কয়েকজন অভিভাবক ।

এরকম বিপাকে পড়া আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিক অভিভাবক মিন্টু হোসেন বলেন, আমার মেয়ে সারাবছর বিনাবেতনে পড়ে এসেছে, নিয়মিত উপবৃত্তি পেয়ে এসেছে, এখন হঠাৎ করেই উপবৃত্তির টাকাও বন্ধ আবার স্কুল থেকেও মাসিক বেতন চাওয়া হচ্ছে । কম বেতনের চাকরি করে পরিবার নিয়ে দিন চলাই যেখানে কষ্ট সেখানে হঠাৎ করে টাকা দাবি করা হয়েছে, টানাটানির সংসারে এই টাকা ব্যায় করা কষ্টসাধ্য।

এদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ১জুলাই থেকে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে, পরীক্ষার ফি ও বেতন পরিশোধ না হলে পরীক্ষায় বসতে দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে জানতে চাইলে, মহিষালোহা জব্বারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিন উদ্দিন বলেন, গত জানুয়ারি থেকে হঠাৎই কোন অর্থ ছাড় হচ্ছিলো না, এজন্যেই আমরা টিউশন ফি নেয়া শুরু করেছি।

তিনি বলেন, উপবৃত্তি প্রকল্পের ফলে দেশে আজ শিক্ষার হার এত বেশি। ঝরেপড়া রোধ, বাল্যবিয়ের হার কমানো, মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে উপবৃত্তির বিকল্প নেই। তিনি জানান, শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তারা কিছু জানাতে পারেন নি, নতুন প্রকল্প আসবে কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানতে পেরেছি। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, সেকায়েপ প্রকল্পভুক্ত ১৬ লাখ শিক্ষার্থী উপবৃত্তি না পেলেও প্রকল্প কর্মকর্তা ঠিকই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদায়ন পেয়েছেন। সেকায়েপ পরিচালক ড. মাহমুদুল হক জানান, অবিলম্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি সিদ্ধান্ত না দিলে টিউশন ফি আদায় নিয়ে জটিল অবস্থার উদ্ভব হতে পারে। কারণ, অভিভাবকরা জেনে আসছেন বিনাবেতনে পড়ানোর কথা। হঠাৎ করে বেতন আদায় করলে তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুল মাদ্রাসায় পাঠানো বন্ধ করে দিতে পারেন। তাতে করে শিক্ষা ব্যবস্থা জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়বে।