জেনে নিন, দুধ কিভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে?

ফুলকি ডেস্ক: ওজন কমানোর একটি প্রচলিত পরামর্শ হল দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলা। তবে স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা।

ভারতের ‘ন্যাশনাল ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজ’য়ের তথ্যানুসারে, ‘ওজন কমাতে হলে দুধ খাওয়া বাদ দিতে হবে এই ধারণা ভুল।’

বরং, বিশেষজ্ঞদের মতে ‘লো-ফ্যাট’ এবং ‘ফ্যাট-ফ্রি’ দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, প্রোটিন ইত্যাদি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে।

এই বিষয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল থেকে তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয় দুধ ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ওজন কমাতে: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কম ননীযুক্ত বা পুরোপুরি ননিমুক্ত দুধ ওজন কমাতে সহায়ক। দিনে কমপক্ষে তিনবার এই ধরনের দুধ পান করলে ওজন কমানো যায়।

পেট সন্তুষ্ট: স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষুধা নিবারণের দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে ননীমুক্ত দুধ অন্যান্য সকল পানীয় যেমন- সোডা, চা, এনার্জি ড্রিঙ্কস ইত্যাদির তুলনায় ভালো। দুধে প্রোটিন থাকার কারণে তা অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে অন্যান্য খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমে।

শরীরচর্চায় সহায়ক: শরীরচর্চা করার ক্ষমতা বাড়াতে পারে দুধ। কারণ এটি শরীরের গঠনে পরিবর্তন আনে। গবেষকদের মতে, শরীরচর্চা ঠিক পরই এনার্জি ড্রিঙ্কসের বদলে দুধ পান করলে পেশি গঠন আরও উন্নত হয়, চর্বির মাত্রা কমে এবং শরীর আরও বেশি শক্তিশালী হয়।

সবচাইতে স্বাস্থ্যকর দুধ: যদি ওজন কমাতে চান তবে শরীরে ক্যালরির ঘাটতি তৈরি করতে হবে। আর সেটা তখনই সম্ভব যখন আপনি প্রতিদিন যত ক্যালরি গ্রহণ করছেন তার চাইতে বেশি ক্যালরি খরচ করবেন। এক্ষেত্রে কিছু বিশেষ ধরনের দুধ আপনাকে সহায়তা করবে।

যদি গাভীর দুধ পান করা পছন্দ হয় তবে অবশ্যই ননীমুক্ত দুধ বেছে নিতে হবে। এক কাপ সাধারণ দুধে মেলে ১৫০ ক্যালরি আর এক কাপ ননীমুক্ত দুধে মেলে ৮৩ ক্যালরি। যদি বিকল্প কিছু চিন্তা করতে চান যেমন- সয়া মিল্ক, তা হতে হবে মিষ্টিহীন। ওজন কমাতেও তা সাহায্য করবে কারণ এগুলোতে প্রোটিন আছে প্রচুর পরিমাণে। তবে কাঠবাদামের দুধ স্বাস্থ্যকর হলেও, তা গ্রহণের পর দ্রুত ক্ষুধা লেগে যেতে পারে।

শরীরের আর্দ্রতা: যে ধরনের দুধই বেছে নেন না কেনো, পান করতে হবে পরিমাণ মতো এবং নজর রাখতে হবে একবারে কতটুকু গ্রহণ করছেন তার উপর। পাশাপাশি পানি পানের পরিবর্তে অন্য পানীয় পান করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে পানির বিকল্প নেই, এটি ওজন কমাতেও সহায়ক এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।