বগুড়ায় মদ কেনার টাকা না দেওয়ায় ক্ষোভে প্রতিমা ভাঙচুর

বগুড়া সংবাদদাতা : মদ কেনার জন্য চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা হরিবাসর ও মন্দিরে হামলা করে দুটি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। শুক্রবার (৬ জুলাই) ভোরে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার করমজা দাসপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানয়ীরা দেশীয় অস্ত্রসহ দুই সন্ত্রাসীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। সোনাতলা থানার ওসি শরিফুল ইসলাম একথা জানিয়েছেন। আটককৃতরা হলো, সুখানপুকুর গ্রামের ঠান্ডু মিয়া (২৮) ও নওদাবগা গ্রামের ডলার খান (৩৫)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, করমজা দাসপাড়া গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর এ সময় মন্দিরে চার প্রহরব্যাপী হরিবাসরের আয়োজন করেন। এ আয়োজনে শুধু হিন্দুরা নয়, গ্রামের মুসলমানরাও চাঁদা দিয়ে থাকেন। বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) রাতে হরিবাসর শুরু হয়। এতে বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পূর্ণার্থী অংশ নেন। ভোর রাত ৫টার দিকে ঠান্ডু মিয়ার নেতৃত্বে ৩-৪ জন সন্ত্রাসী আয়োজকদের কাছে মদ কেনার জন্য ৩ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসীরা মঞ্চ ভাঙচুর শুরু করে। এসময় পূর্ণার্থীরা ভয়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন। পরে তারা (সন্ত্রাসী) মন্দিরে ঢুকে অদ্বৈত্য ও নিত্যানন্দ প্রতিমা ভাঙচুর শুরু করে। এলাকাবাসীরা এসে ঠান্ডু ও ডলারকে ধারালো চাকুসহ হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দেয়। তাদের অপর সঙ্গীরা পালিয়ে যায়। পরে তাদের সোনাতলা থানা পুলিশে দেওয়া হয়েছে।

করমজা পূজা ও হরিবাসর কমিটির সভাপতি টুকু দাস ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, তাদের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ওই সন্ত্রাসীরা নেশার জন্য চাঁদা দাবি করে। সাধ্যমতো তাদের চাঁদা দেওয়া হয়। এবার সংগ্রহ কম থাকায় তাদের চাঁদা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই তারা হরিবাসরের মঞ্চ ও প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। আটক দু’জন জামিনে ছাড়া পেয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

সোনাতলা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও মধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অসীম কুমার জৈন নতুন জানান, হরিবাসরের মঞ্চ ও মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা শুনেছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

সোনাতলা থানার ওসি শরিফুল ইসলাম জানান, মদ কেনার চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। দু’জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।