ড. কামালের নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলা ইনসাইডার এবার নির্বাচনকালীন সরকারের ফর্মুলা নিয়ে আসছেন ড. কামাল হোসেন। ড. কামালের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে একটি দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছেন সাবেক আওয়ামী লীগের এই নেতা। এই রূপরেখা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন মার্কিন দূতাবাস, যুক্তরাজ্য দূতাবাস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের কাছে। এই সব উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্রের সবুজ সংকেত পেলে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই রূপরেখা উপস্থাপন করতে চান এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ। ড. কামাল হোসেন এ নিয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তিনি মনে করছেন, এর ফলে নির্বাচন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক সংকটের অনেকটাই সমাধান হবে।
ড. কামাল হোসেনের নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখায় একজন নির্দলীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ উপদেষ্টা মন্ডলীর তত্ত্বাবধানে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করা হয়েছে। ড. কামাল হোসেনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধানের ৫৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার লিখিত পরামর্শ দান করবেন। এই পরামর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙ্গে দেবেন। সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের ৫৮(৪) অনুযায়ী পদত্যাগ করবেন। তাঁর পদত্যাগের পরপরই মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হবে।
র প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৭(৩) অনুচ্ছেদ প্রয়োগ না করে, সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের একক সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। সংবিধানের ৫৭(৩) অনুচ্ছেদে, পরবর্তী উত্তরাধিকার মনোনীত না হওয়া পর্যন্ত পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে। আর সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দুটি নিয়োগ একক কর্তৃত্বে করতে পারেন। একটি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগে এবং অন্যটি প্রধান বিচারপতি নিয়োগে।
ড. কামাল হোসেনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধানের ৫৬ (২) অনুযায়ী এক দশমাংশ মন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রী সহ) অনির্বাচিত হতে পারে। সংবিধানের এই বিধানের আলোকে রাষ্ট্রপতি সকলের কাছে আস্থাভাজন কাউকে অন্তর্র্বতীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন।
গণফোরাম এই নেতার প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলো সংলাপের মাধ্যমে ৯০ এর মতো গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে অন্তর্র্বতীকালীন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করবেন। ঐক্যমতের ভিত্তিতে মনোনীত ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা গঠন না করে, একটি উপদেষ্টা ম-লীর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সময়ে রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন। এই উপদেষ্টা ম-লীও সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে মনোনীত হবেন। তারা যেহেতু মন্ত্রী থাকবেন না, তাই তাদের শপথ গ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না। জানা গেছে, ড. কামাল হোসেন তাঁর প্রস্তাবে বলেছেন, উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অনির্বাচিত ব্যক্তির অন্তর্র্বতীকালীন সময়ে বিশেষ প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী হবার নজির রয়েছে। রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর নরসীমা রাও যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তখন তিনি নির্বাচিত ছিলেন না। পরে, একটি উপ নির্বাচনে তিনি জয়ী হন। কামাল হোসেনের ফর্মুলা অনুযায়ী, নতুন নির্বাচনের পর বিজয়ী দলের সংসদ নেতা নির্বাচিত হবার পরপরই অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন। ড. কামাল তাঁর নির্দলীয় সরকারের প্রস্তাব ছাড়াও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন এবং অবৈধ সম্পদ এবং অবৈধ অস্ত্র মুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
একাধিক সূত্র বলছে, দাতা দেশ গুলো ড. কামালের প্রস্তাব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছে। আওয়ামী লীগ সরকার বারবার বলে আসছে, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে। আওয়ামী লীগের এমন দাবি মেনে নিয়ে একটি অন্তবর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা চেয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ড. কামাল হোসেন তাঁদের চাহিদা পূরণের জন্যই এই প্রস্তাব দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।