ধামরাইয়ে প্রিয়াংকা আত্মহত্যার ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দবিতে মানববন্ধন

ধামরাই প্রতিনিধি:  ধামরাইয়ে প্রিয়াঙ্কা পাল নামের এক তরুণী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করার ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবি মানুষ। শুক্রবার ধামরাই বাজারের প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সচেতন নাগরিক সমাজের আহবায়ক ইমরান আতিক, অঙ্কুর নৈশ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সজীব চৌধুরী ও প্রিয়াঙ্কার বড় বোন সুমা পাল, এনজিও প্রতিনিধি মুতুর্জ হোসেন, গণবিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিপি জুয়েল রানা, গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুনিয়া আক্তার, যুবলীগ নেতা হাফিজুর রহমান প্রমুখ। এসময় বক্তারা আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার প্রেমিক তন্ময় পাল, তার বাবা সুনীল চন্দ্র পাল, মা আনু পাল, বোন সাথী ও বীথি পালকে আসামী করে ধামরাই থানায় মামলা করেছে প্রিয়াঙ্কার বাবা (মামলা নং-৩)।

মামলার বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক জানান, ‘এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে। দ্রুতই দোষীদের গ্রেফতার করা হবে।’
প্রিয়াঙ্কা ধামরাই পৌরসভার উত্তরপাঠানটোলার সৈয়দপুর মহল্লার প্রহ্লাদ পালের মেয়ে। তিনি ধামরাইয়ের কালামপুরে অবস্থিত সমাজ ও জাতি গঠন (সজাগ) নামের একটি বেসরকারি সংস্থায় সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন।

গত রোববার তার কর্মস্থলের সপ্তম তলার একটি কক্ষ থেকে প্রিয়াঙ্কার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে আত্মহত্যার কারন হিসেবে প্রেমিক তন্ময় ও তার পরিবারকে দায়ী করে স্ট্যাটাস দেন।

প্রিয়াংকার পরিবারের অভিযোগ, তন্ময় পালের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তন্ময়ের পরিবারের চাপ ও মানসিক নির্যাতনে তন্ময় প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকিতে প্রিয়াঙ্কা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়’।


তন্ময় পাল ধামরাইয়ে ঐতিহ্যবাহী মতিপাল এন্ড সন্স মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক সুনীল পালের ছেলে। সে ঢাকার এআইইউবি প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ পাশ করার পর সিলেটে ব্র্যাকে চাকুরি করছেন।
প্রিয়াঙ্কা গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।