আশুলিয়ায় মমতাজউদ্দিন জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু

আশুলিয়া ব্যুরো : আশুলিয়ায় পলাশবাড়ীতে মমতাজউদ্দিন জেনারেল হাসপাতালে টনসিল অপারেশনের জন্য রোগীকে অজ্ঞান করার পর তার আর জ্ঞান ফিরেনি। অপারেশন থিয়েটারেই লাশ হলেন ৩ সন্তানের জননী হতভাগ্য গৃহবধূ লাইলী বেগম (৩৩)। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টারদিকে। নিহত মিসেস লাইলী বেগম আশুলিয়ার ডেন্ডাবর নতুনপাড়া কাশেমের মোড় এলাকার আবুল কাশেমের স্ত্রী।

এ ব্যাপারে নিহত লাইলির স্বামী আবুল কাশেম বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ তার স্ত্রী ঠান্ডা জনিত টনসিল রোগে ভুগছিলেন। তাকে চিকিৎসার জন্যে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টারদিকে মমতাজ উদ্দিন হাসপাতালের চিকিৎসক এমতাজুল-এমবিবিএস এর নিকট যাই। সে পলাশবাড়ির মমতাজ উদ্দিনজেনারেল হাসপাতালে নাক, কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মুদাচ্ছির মাহমুদের কাছে পাঠায়।

চিকিৎসক মুদাচ্ছির আমার স্ত্রীকে অপারেশন করার পরামর্শ দেন। তখন আমি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবেল ওয়াহিদ এর নিকট গিয়ে অপারেশন চার্জ এর বিষয়ে জানতে চাইলে সে ১২ হাজার টাকা খরচ হবে মর্মে জানায়।

পরে ৯ হাজার টাকায় অপারেশন করাতে সম্মত হন। পরে চিকিৎসক মুদাচ্ছির ও এমতাজুল আমার স্ত্রী লাইলীকে অপারেশন থিয়েটারে ওইদিন রাত ৮টায় প্রবেশ করান। সেখানে প্রায় ২ ঘন্টা অতিবাহিত হয়ে যায়।

এ সময় আমি ও আমার আত্মীয় স্বজন অপারেশন থিয়েটারের বাহিরে অবস্থান করি। একপর্যায়ে হাসপাতালের নার্সদের তার স্ত্রীর অপারেশন সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। এতে সন্দেহ  হলে আমিসহ স্বজনরা কয়েকজন জোরপূর্বক অপারেশন থিয়েটারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে স্ট্রাকচারে তার স্ত্রীর দেহ উপুর হয়ে পড়ে থাকতে দেখি সেখানে কেউ নেই। তার স্ত্রীর নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত ঝড়ছে।

তার দেহ অচেতন অবস্থায় পরে রয়েছে, নিঃশ^াস নেই। ভুল অপারেশনে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসকের কাছে জানতে তার কক্ষে গিয়ে সেখানে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখি। এ ঘটনায় উল্লেখিতরা হাসপাতাল ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ওই হাসপাতাল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে সোহরাওয়ার্দী হাসপতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। জানা যায, ঢাকার তেজগাঁওয়ের জাতীয় নাক, কান, গলা ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতালের ডাক্তার মুদাচ্ছির মাহমুদ মমতাজউদ্দিন জেনারেল হাসপাতালের সার্জন হিসেবেও কর্মরত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মুরাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত লাইলী বেগমের লাশ হাসপতালের অপারেশন থিয়েটার থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে পাঠানো হয়েছে। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের কারো সাথে যোগাযোগ বা জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি।