সিআরপি থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারের দায়ে ১১ গাড়ি জব্দ

স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি)তে অভিযান চালিয়ে শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারের দায়ে বিলাসবহুল ১১টি গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। জব্দকৃত গাড়ির আনুমানিক মূল্য ৩০ কোটি টাকা।

গতকাল বুধবার বিকেলে সিআরপিতে অভিযান চালিয়ে গাড়িগুলো জব্দ করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী মুহম্মদ জিয়া উদ্দিন।

ড. সহিদুল ইসলাম জানান, যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ডিএফআইডি) নামে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ১৯টি গাড়ি দুই বছর আগে সিআরপির গ্যারেজে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে দুই দফায় ৮টি গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হলেও অবশিষ্ট গাড়িগুলো শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল।

সিআরপির হেড অব সাপোর্ট সার্ভিস শহিদুর রহমান জানান, যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) সিআরপির বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করেছিল। সেই সুবাদে ২০১৬ সালের ২৭ জুন মাত্র ছয় মাসের জন্য ডিএফআইডি গাড়িগুলো রেখে যায়। তারপর থেকে ডিএফআইডি দুই দফায় ৮টি গাড়ি সরিয়ে নিলেও বাকিগুলো নেয়নি। গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য বহুবার সিআরপি হতে ডিএফআইডিকে মেইল করা হলেও ডিএফআইডি কোনো প্রকার সাড়া দেয়নি।

কাস্টমস আইন অনুযায়ী, শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে কেউ কোনো গাড়ি ব্যবহার করলে পরবর্তী সময়ে ওই কর্মকর্তার পদবী পরিবর্তন হলে বা অন্য কোনো সংস্থায় যোগদান করলে পুরাতন কাস্টমস পাসবুক জমা দিয়ে নতুন করে পাসবুক গ্রহণ করতে হয়। সে ক্ষেত্রে পুরাতন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করা যাবে না। কাস্টমস আইন ১৯৬৯-এর ৭-ধারা অনুসারে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়ির বিষয়ে এনবিআরকে জানাতে হয়। গাড়ি হাত বদল করলে শুল্ক করাদি সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়।