বাংলাদেশেও কমতে পারে তেলের দাম

ফুলকি ডেস্ক : মর্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জ্বালানি তেলের উৎপাদন বাড়াতে সম্মত হয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমার পাশাপাশি বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে দেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কমদামে তেল কিনতে পারার কারণে দেশের অভ্যন্তরে দাম করবে বলেও মন্তব্য করেন অনেকে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বলছে, ১৯৯৯-২০০০সাল থেকে ২০১৩-২০১৪সাল সময় পর্যন্ত লোকসানে ছিলো প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু পরবর্তীতে প্রায় ৩বছর লাভজনক অবস্থায় থেকে গত কয়েক মাস ধরে লোকসান গুনছে। তবুও আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় রেখে দেশেও জ্বালানি তেলের মূল্য কমতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন কর্পোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক  পরিচালক (অর্থ) মো. আলতাফ হোসেইন চৌধুরী আমাদেরসময়. কমকে বলেন, গত বছরের নভেম্বর থেকে লোকসান গুণছে বিপিসি। এর আগে ৩বছরেরও বেশ সময় ধরে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনা দামের চেয়ে দেশের বাজারে বেশি দামে তেল বিক্রি করে কিছুটা মুনাফা হয়েছে। ২০১৪-১৫সালে আমরা ৪হাজার কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭সালে ৪হাজার ৫৫১ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৪সাল থেকে প্রায় দুই বছর ধরে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৩০ থেকে ৫০ডলারের মধ্যে। আগে যা ছিল ১০০ডলারের ওপরে। কিন্তু বর্তমানে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭০ডলার। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় ফের লোকসান গুণতে শুরু করে বিপিসি। কিন্তু আমরা এই লোকসান কাটাতে জ্বালানি তেল আমদানিতে ভর্তুকি লাভের আসায় অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি প্রায় ৩মাস আগে।

এখন পর্যন্ত এই চিঠির উত্তর না পেলেও আন্তর্জাতিক বাজারে যদি তেলের দাম কমে তাহলে সরকারি নীতি অনুযায়ী দেশের বাজারেও এর দাম কমানো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম। তিনি আমাদেরসময়.কমকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা বা বাড়ার সাথে বাংলাদেশের বাজারে কোনো প্রভাব পরতে আমরা দেখি না।

এটিকে সাময়িক একটি দামের তারতম্য বলে হিসেবে সরকারের কাছে গণ্য হয় বলে আমি মনে করি। তবে আমি এটাও মনে করি যে, জ্বালানি তেলের মূল্য কমলে জনগণের জীবনযাত্রার ব্যায় কমবে। আর এতে করে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটবে। বিপিসি যদি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম দামে তেল কিনতে পারে তাহলে তারা দেশের অভ্যন্তরেও কম দামে তেল সরবরাহ করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারের সহযোগীতা অব্যাহত থাকতে হবে। প্রসঙ্গত, সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী খালিদ আল ফালিহ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের বৈঠকে জানিয়েছিলেন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে তারা পদক্ষেপ নেবেন। এ জন্য তারা প্রয়োজেনে তেলের দৈনিক উৎপাদন ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করবে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তেল উত্তোলনে রেকর্ড গড়বে দেশটি।