পাঁচ কারণে বিশ্বকাপ জিততে পারে ব্রাজিল

ফুলকি ডেস্ক: যখন কোন দল জিততে থাকে তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের নিয়ে প্রত্যাশার পারদ উঁচুতে উঠতে আরম্ভ করে। তাই শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখা ব্রাজিলকেই শিরোপার প্রধান দাবিদার ভাবছেন বোদ্ধারা।

শেষ ষোল এর লড়াইয়ে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচেই তিতের ব্রাজিলের শক্তিমত্তার নিদর্শন পাওয়া গেছে। এভাবে খেলতে থাকলে সেলেসাওদের ‘হেক্সা মিশন’ সফল হবে তাতে সন্দেহ নেই।

আর মাত্র তিন ম্যাচে জয় পেলেই বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুলবে সেলেসাওরা। তবে ব্রাজিলের এই অপরাজেয় পারফর্মেন্স এর পিছনে রয়েছে পাঁচ কারণ:

এক. দুর্ভেদ্য রক্ষণ

কথায় আছে, আক্রমণ আপনাকে ম্যাচ জেতায় কিন্তু রক্ষণ ট্রফি জেতায়। এটা প্রকৃত অর্থেই সত্য। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে স্পেন ৭ ম্যাচে মাত্র ২ গোল হজম করেছিলো। ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি মাত্র ৪ গোল হজম করে ট্রফি জিতে নিয়েছিলো।

দুই. শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চ

মূল একাদশ ছাড়াও অনেক ম্যাচ জেতানো খেলোয়াড় আছে বর্তমান ব্রাজিল দলে। তারা সারা মাঠ ছড়িয়ে খেলতে সক্ষম, চাই সেটা রক্ষণে কিংবা আক্রমণে হোক না কেন।

তিন. অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেল

ব্রাজিল দলের সব খেলোয়াড়ই ফুটবলের জন্য আদর্শ বয়স অতিবাহিত করছেন। আগের বিশ্বকাপে নেইমারের বয়স ছিল মাত্র ২২। এবার তার বয়স ২৬। অন্যদিকে থিয়াগো সিলভা ও মিরান্দার অভিজ্ঞতার ঝুলি পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।তাদের দুজনের বয়সই ৩৩। ডিফেন্ডারদের জন্য সেরা ফর্ম দেখানোর আদর্শ বয়স ধরা হয় ৩০-৩৪ বছর। মার্সেলোর বয়স ৩০, তার মানে এটাই তার সেরা ফর্মে থাকার শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। একই কথা বলা যায় ফাগনারের ক্ষেত্রেও। তার বয়স ২৯। আক্রমণে কুতিনহোর বয়স ২৬, যা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের জন্য একদম সঠিক বয়স। আরেক অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার উয়িলিয়ানের বয়স ২৯। এ তালিকায় সবচেয়ে অনভিজ্ঞ গ্যাব্রিয়েল জেসুসের বয়স মাত্র ২১ বছর।

চার. দায়িত্ব নেওয়ার মতো খেলোয়াড়ের অভাব নেই

গত বিশ্বকাপে ঠিক এই কারণেই বিশ্বকাপে সফলতা পায়নি ব্রাজিল। নেইমারনির্ভর দলটি ঠিক যখনই নেইমারবিহীন হয়ে গেল হেরে বিদায় নিলো তাও জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের ব্যবধানে। এবার সেই সমস্যা নেই। এই দলে সব সেরা তারকার উপস্থিতিই শুধু নয়, দায়িত্ববান খেলয়াড়েরও অভাব নেই।

পাঁচ. উচ্চপর্যায়ের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড

ব্রাজিলের খেলার সবচেয়ে অবমূল্যায়িত অংশ সম্ভবত মধ্যমাঠের কাণ্ডারিরা। এই শতাব্দীর সব বড় দলই তাদের মিডফিল্ড বিশেষ করে সেন্টার মিডফিল্ডের শক্তিমত্তার উপর নির্ভরশীল যা পুরো দলকে একসূত্রে গাঁথার কাজটি সমাধা করেন।