‘নাটুকে’ নেইমারে বিরক্ত ফুটবল বিশ্ব!

ফুলকি ডেস্ক: নেইমার ব্রাজিলকে তৃপ্তি দিয়েছেন কিন্তু আর বিশ্বকে বিরক্ত করেছেন- এ শিরোনামটিই ব্যবহার করেছে খোদ ব্রাজিলের পত্রিকা গ্লোবো। পত্রিকাটি মাঠে নেইমারের ‘কাণ্ডকারখানা’র কয়েকটি ছবি দিয়ে এমনটাই বলেছে।

তাদের মতে, ‘নেইমারের কীর্তি নিখুঁত কিন্তু বিরক্তিকর’। যদিও এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়টির নাম নেইমার আর কোন তর্ক ছাড়াই বলতে হয় লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিদায়ের পর বিশ্বকাপে টিকে থাকা একমাত্র সুপারস্টার।

পারফরমেন্সের কারণেই সোমবারের খেলায় তিনিই ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি দলের ২-০ গোলের দারুণ বিজয়েও তার অবদানই বেশি।তারপরেও নিরপেক্ষ বিশ্লেষকদের মধ্যে এখনো মোটেও জনপ্রিয় নন নেইমার।বল নিয়ে কসরত দেখিয়ে জায়গা বের করা দেখিয়েছেন তিনি। গতির সাথে স্কীল, বুদ্ধিমত্তার সাথে পেছনে পাস দেয়ার মাধ্যমে প্রথম গোলটির ক্ষেত্র তিনিই তৈরি করেছেন।

কিন্তু সেখানে কিছুটা বিরক্তিও আর নাটকও ছিল যদিও এটা হতে পারে সামান্য সুবিধা আদায়ের চেষ্টা যা সত্যিই ফুটবল মূল্যবোধের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে অনেকে মনে করেন।

মেক্সিকোর ফুল ব্যাক মিগুয়েল লায়ুন যখন ভদ্রভাবেই তার গোড়ালিতে পা রাখলেন তখনি নেইমার শুরু করলেন গড়াগড়ি যেনো প্রচণ্ড ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েছেন তিনি। এটা সবারই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে: তার সতীর্থ, মেক্সিকোর খেলোয়াড়, রেফারি ও সহকারিরা, কর্মকর্তাসহ সবাই জড়িয়ে পড়েন এ ঘটনায়।কোচ তিতে ওই ঘটনা নিয়ে বলেছেন, তারা নেইমারকে পা দিয়ে মাড়িয়েছে। আমি বড় পর্দায় দেখেছি।

মেক্সিকোর সাথে ম্যাচের পর নেইমারকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে ২৬ বছর বয়সী নেইমারইসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। ওই ঘটনা নিয়ে নেইমার বলেন, এটা আমাকে ছোটো করার আরও অপপ্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়।সমালোচনা বা প্রশংসাকে আমি পাত্তা দেই না। গত দুটি ম্যাচের পর আমি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলিনি, কারণ আমি সেটি চাইনি। আমাকে শুধু খেলতে হবে, সতীর্থদের সহায়তা করতে হবে ও দলকে সাহায্য করতে হবে।

প্রায় ১০ কোটি ফলোয়ার আছে তার ইন্সটাগ্রামে এবং খেলার পরই তার পোস্টে লাইক পড়েছে ১০ লাখ।কিন্তু সুইজারল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর তার মাঠে নাটকীয় গড়াগড়ির ছবিই বেশি শেয়ার হয়েছে টুইটারে।

গতকাল মেক্সিকোর বিরুদ্ধে গোলসহ বিশ্বকাপে তার ষষ্ঠ গোল করেছেন নেইমার। আর এসব গোল পেতে তিনি গোলে শট নিয়েছেন ৩৮টি অথচ এজন্য মেসিকে নিতে হয়েছে ৬৭ ও রোনালদো নিয়েছেন ৭৪ শট। এবারের বিশ্বকাপে নেইমার ২৩বার শট নেয়ার চেষ্টা করে ১২টিই নিতে পেরেছেন গোলবার লক্ষ্য করে। সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করেছেন (১৬টি)। সবচেয়ে বেশি ড্রিবলিং করেছেন। সবচেয়ে বেশি বার ফাউলের শিকার হয়েছেন (২৩টি)। ব্রাজিল শুক্রবার শেষ আটের খেলায় মুখোমুখি হবে বেলজিয়ামের। দেখা যাক পরের খেলায় কি করেন নেইমার।