কার্লাইলের ভারত সফর নিয়ে এখনও কিছুই জানে না বিএনপি!

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক জনমত তুলে ধরতে ভারত সফর করবেন তার নিযুক্ত বৃটিশ আইনজীবী হাউস অব লর্ডসের সদস্য অ্যালেক্স লর্ড কার্লাইল। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতারা এখনও কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। তবে আগামী বুধবার দলের কূটনৈতিক উইংয়ের বৈঠক হবে বলে সংশ্লিষ্ট একজন নেতা

জানিয়েছেন।

সোমবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি গণমাধ্যমে ভারতীয় প্রতিনিধির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘খালেদা জিয়াকে কীভাবে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে, সেই ব্যাখ্যা দিতে দিল্লি আসছেন ব্রিটিশ আইনসভা হাউস অব লর্ডসের সদস্য বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যালেক্স লর্ড কার্লাইল। ১৩ জুলাই বেলা ১টায় তিনি দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেটস ক্লাবে (এফসিসি) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে ভারতে আসার কথা বাংলাদেশের কয়েকজন আইনজীবীরও, যারা খালেদা জিয়ার হয়ে মামলা লড়ছেন। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির এই উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।’

বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনও অবগত নই। এই প্রথম শুনলাম।’

আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না।’

তবে সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আগামী পরশুদিন আমাদের বৈঠক আছে। তারপরে বলতে পারবো।’

চলতি বছরের ২০ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে কার্লাইলকে নিয়োগের কথা জানান। তখন তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আইনগত দিক দেখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জনমত তুলে ধরবেন।

৮ মে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন খালেদা জিয়ার বৃটিশ আইনজীবীকে ভিসা দিচ্ছে না সরকার।

ভারতে নিযুক্ত বিদেশি সাংবাদিকদের ক্লাব ‘এফসিসি’র সভাপতি এস ভেঙ্কটনারায়ণ ঢাকার একটি দৈনিক পত্রিকার ভারতীয় প্রতিনিধিকে বলেছেন, ‘লর্ড আলেক্স কার্লাইল ১৩ জুলাই বেলা ১টায় আমাদের এখানে সংবাদ সম্মেলন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ক্লাবকে পাঠানো বার্তায় তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন নেই। খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। জামিন দেয়া হচ্ছে না। সে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা কেমন, তা তিনি ভারতে এসে ব্যাখ্যা করতে আগ্রহী।’

উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেন লর্ড কার্লাইল। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডের পর এক চিঠিতে তিনি মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।