আশুলিয়ায় মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী আমিনুলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

আশুলিয়া ব্যুরো : আশুলিয়ায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী চিহ্নিত সন্ত্রাসী এক ডজন মামলার আসামীকে এলাকাবাসী গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ উল্লাস প্রকাশ করেছে।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আশুলিয়ার কবিরপুর স্পার্কল কারখানার সামনে মোটরসাইকেলযোগে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা একটি দোকানে হামলা চালালে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ওই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের ঘেরাও করে। এসময় সঙ্গীয় অন্য সন্ত্রাসীরা পালাতে সক্ষম হলেও আমিনুল হক (২৮) কে জনতা ধরে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশের হাতে তাকে সোপর্দ করা হয়েছে।

আটক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী হত্যাসহ ডজন খানেক মামলার আসামী আমিনুল আশুলিয়া থানাধীন কবিরপুর এলাকার সিরাজ হোসেন ও আছিরনের ছেলে। সে কবিরপুর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ, ডাকাতি, ছিনতাই, হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ এক ডজন মামলার আসামী। তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া ও গাজীপুর, কালিয়াকৈর থানায় মামলাসহ দেড় ডজন সাধারণ ডাইরি রয়েছে।

এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত বিপ্লব ও এনামুল হক বজলু বলেন, সোমবার দুপুরে আমিনুল হক এর নেতৃত্বে তার সহযোগি আসিফ, আকাশসহ ৮/১০ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ৪টি মোটর সাইকেলযোগে দেশীয় অস্ত্র দা, লাঠি, ছোড়া, হকিস্টিক ও রামদাসহ এসে দোকানে হামলা ও লুটপাট চালায়। হামলায় তারা আহত হন। এসময় দোকানের ক্যাশে থাকা ৫৪ হাজার ৪শ’ টাকা, ৩টি মোবাইল সেট স্যামসং ও স্যাম্পনি যার মূল্য ৪৫ হাজার টাকা লুটে নেয়।

সন্ত্রাসীরা দোকানের মালামাল ও আসবাবপত্র ভাংচুর চালিয়ে আনুমানিক ৮৫ হাজার টাকার ক্ষতি-সাধন করে। পরে এলাকার সাধারণ মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে ঘোরাও করলে অন্য সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আমিনুল হক ধরা পরে। এলাকার সাধারণ মানুষ সংক্ষুব্ধ হয়ে গণধোলাই দিয়ে থানা পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগিরা।

উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে বাড়ি ভাংচুর ও কুপিয়ে আহত ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগে আশুলিয়া থানায় মামলা নং-২৯ দায়ের হয়। ২০১৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক কালিয়াকৈর আটাবহ শাখার ম্যানেজার ইসমাইল হোসেনকে কবিরপুর এলাকায় মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে কুপিয়ে আহত করে ২১ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আশুলিয়া থানার মামলা নং-৪৭, ২০১৭ সালে আলোচিত আশা’র এনজিও কর্মী সাবিনাকে হত্যা করে লাশটি কবিরপুর বেতার কেন্দ্রের বাউন্ডারীর কাছে পতিত স্থানে মাটিচাপা দেয়। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা হয়।

ওই মামলার অন্যতম আসামী আমিনুল হকসহ উল্লেখিতরা। ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল মাদক বিক্রিতে বাঁধা দিলে কবিরপুর এলাকার মীর কাশেমের ছেলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী রতন মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হাত ও পা ভেঙ্গে ওই এলাকার ধানক্ষেতে ফেলে রাখে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানার মামলা নং-৪৬ হয়।

উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় শিমুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম সুরুজ ও ইউপি সদস্য এবং সাধারণ মানুষের গণ স্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদন থানায় ওসির বরাবরে জমা দেন। এ বছরের ৩ জুন চ্যানেল আই এর ঢাকা জেলা প্রতিনিধি জাকির হাসান কবিরপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর দেলোয়ারের বাড়ির সামনে পৌঁছলে তার গতিরোধ করেন।

তাকে বেদম মারধর এর পর তার কাছে থাকা মোবাইল, টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় জাকির হাসান চিকিৎসা নিয়ে আসিফ ও তার সঙ্গীয়দের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা নং-১৫ করেন। এছাড়া ৫ জুন দিবাগত রাতে কালিয়াকৈর উলুসারা এলাকার জাহাঙ্গীরের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে স্বর্ণালঙ্কারসহ লক্ষাধিক টাকা লুটে নেয়। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় আমিনুলসহ চিহ্নিত উল্লেখিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা নং-১৬ করে ভুক্তভোগিরা।

এলাকাবাসী জানান, আমিনুল, আসিফ ও আকাশ গংদের নির্যাতন, মাদক বাণিজ্য, ধর্ষণ, হত্যা ভয়ভীতিতে এলাকাবাসী আতঙ্কিত। অবিলম্বে এসকল চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশী নজরদারি বৃদ্ধির আহ্বান জানান।