আমেরিকাকে ঠেকাতে চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐক্য

ফুলকি অনলাইন: পিয়ংইয়ংয়ের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ প্রয়োগে চীনকে আহ্বান জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।

গত জুনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান বলে নিশ্চিত করেছে জাপানী গণমাধ্যম ইয়োমিউরি।

পত্রিকাটির বরাতে রোববার রয়টার্স জানায়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য চীনের সহযোগিতা কামনা করেন কিম। এ সময় ১২ই জুন সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা আলোচনা করেন।

কিমের এ আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে চীনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ঐতিহাসিক সিঙ্গাপুর সম্মেলনের পরের সপ্তাহেই এ বছর তৃতীয়বারের মতো চীন সফরে যান উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন।

চীন-উত্তর কোরিয়া ঐক্যের অঙ্গীকার

কিম জং উন বেইজিংয়ের সাথে অটুট ‘বন্ধুত্ব, ঐক্য ও সহযোগিতা’ বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। চলতি বছর তৃতীয়বারের মতো চীনে সফরকালে তিনি এ ঘোষণা দিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে যুগান্তকারী বৈঠকের পর কিম তার প্রধান মিত্র চীনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের নিদর্শন হিসেবে এ সফর করছেন।

উত্তর কোরিয়া চীনের স্বার্থ পরিপন্থী কোন কাজ করবে না বলে বেইজিংকে আশ্বস্ত করতেই কিমের এই সফর। কিম বেইজিংয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ের স্বার্থই রক্ষার চেষ্টা করছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অন্যদিকে, চীন উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় স্বার্থই সংরক্ষণ করে আসছে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখতে চায়। তবে বেইজিংয়ের আশঙ্কা ওয়াশিংটন আর পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সখ্যতা বাড়লে অঞ্চলটিতে চীনের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

কিমের চীন সফরের ‘এজেন্ডা’ সম্পর্কে প্রকাশ্যে কিছু বলা হয়নি। তিনি বলেন, তিনি দুই দেশের মধ্যে ‘সম্প্রতি কৌশলগত সহযোগিতার যে উত্তরণ ঘটেছে’ তার মূল্যায়ন করেন।

তিনি দুই দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, একতা ও সহযোগিতাকে আরো জোরদার করতে চান।এদিকে চীনের নেতা শি জিনপিং পরমাণু কূটনীতিতে ‘গঠনমূলক ভূমিকা পালন’ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।