সিংগাইরে নদী দখলের অভিযোগে আ. লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ নর্দাণ পাওয়ার জেনারেশনস-এর বিরুদ্ধে মামলা

সিংগাইর প্রতিনিধি : সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ধলেশ্বরী নদী দখলের অভিযোগে অবশেষে মামলা হয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মোঃ নূর ইসলাম মিয়া বাদি হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে শনিবার রাতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামীরা হচ্ছেন, ঢাকা নর্দান পাওয়ার জেনারেশনসের পরিচালক মোস্তফা মঈন, ইনচার্জ আশিকুছ ছালাম, সাইট ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভিপি শহিদুর রহমান শহিদ এবং জামির্ত্তা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম রাজু।

মামলার এজাহারে প্রকাশ, উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ধল্লা মৌজায় চর্চা নক্্রার ধলেশ্বরী নদীসহ ১১ একর ৩০ শতাংশ জমিতে বালু ভরাট করে ফোরশোরভুক্ত জমিতে সরকারি বাধা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে জোরপূর্বক বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের নামে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করে ঢাকা নর্দান পাওয়ার জেনারেশনস লিঃ। এ বিষয়ে স্থানীয় ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে একাধিকবার বাধা দেয়া হয়। সেই সাথে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জায়গার পরিমাপ করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে লাল নিশান টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়। গত ২৬ জুন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার সরেজমিনে এসে নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। তারপরেও ওই নির্দেশ অমান্য করায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই  মামলা দায়ের করেন বলে মামলার বাদী নূর ইসলাম মিয়া। স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। এছাড়া মামলা দায়ের করে আতঙ্কে আছেন বলেও তিনি জানান। আসামিদের দ¦ারা তার জানমালের ক্ষতির আশংকাও করছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারি ওই কর্মকর্তা। মামলা তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফ মফিজুল হক বলেন, মামলার কপি হাতে পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, ধলেশ্বরী নদীর দখল নিয়ে দৈনিক ফুলকিসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। এলাকাবাসির পক্ষ থেকে ৩ শতাধিক লোক স্বাক্ষরিত অভিযোগ গত ৪ জুন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন বরাবর দায়ের করা হয়। যার প্রেক্ষিতে গত ২৬ জুন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার  সরেজমিনে এসে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিেিদর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওইদিন জেলায় মিটিং করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নদী দখল বন্ধ করে স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া ওই নদী দখলে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদ্মা গ্রুপ অব কোম্পানীজ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে আদালত ওই স্থাপনা বন্ধে ৩০ দিনের স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করেন।

প্রসঙ্গতঃ, সিংগাইর উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত ধলেশ্বরী নদীর চর জেগে উঠলে ১৯৮৬-৮৭ সালে চাষাবাদের জন্য ভূমিহীনদের ১৫ বছর মেয়াদি বন্দোবস্ত দেয়া হয়। পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে অনেক ভূমিহীন বন্দোবস্ত পাওয়া জমি নাম মাত্র টাকায় প্রভাবশালীদের কাছে হস্তান্তর করেন। আবার অনেকের জমি দখল করে নেয় প্রভাবশালীরা। মূলত এই প্রভাবশালীরা পরবর্তী সময়ে সব জমি ভরাট করে  বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে ২০১২ সালে সিংগাইর উপজেলা কৃষি ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় বন্দোবস্ত দেয়া ২৯৭টি কেস বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ি, ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর ১৬৪৩ নম্বর স্মারকের ভূমি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে তৎকালিন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুন্সী শাহাবুদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, ওই সব জমি বছরের বেশির ভাগ সময় ধলেশ্বরী নদীর পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এখানে স্থাপনা গড়ে তোলা হলে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হবে, যা পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। নদী তথা পরিবেশ রক্ষায় তিনি এই ২৯৭টি বন্দোবস্ত কেস বাতিলের ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন। সে থেকে ধল্লা মৌজার বন্দোবস্ত দেয়া খাস জমি হস্তান্তর, নামজারি, খাজনা গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়। সে অনুযায়ি দীর্ঘদিন ওইসব জমির সকল দালিলিক কার্যক্রম স্থগিত থাকে। সম্প্রতি সিংগাইরে ধলেশ্বরী নদীর উপর ভাষা শহীদ রফিক সেতুর উত্তর পাশে নদী ভরাট করে  বেশ কিছু স্থাপনা গড়ে ওঠেছে। সেতুর মাত্র ২‘শ মিটার উত্তরে নর্দাণ পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের নির্মাণ কাজ চলছে ।