বিশ্ববাজারে কমলেও দেশে চালের দাম বাড়তি

বিশ্বে চালের বাজারে এখন আলোচিত নাম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের একটি সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ববাজারে চালের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে চালের দাম না কমে উল্টো বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ আমদানির ওপর ২৮ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যে বিশ্ববাজারে চালের দাম প্রতি টনে ৩৫ ডলার কমে গেছে। এই সময়ে দেশে মোটা চালের দাম ৫ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বেড়েছে সরু চালের দামও।

এখন বিশ্ববাজারে প্রতি টন চালের দাম ৪০০ ডলারের নিচে। গত দুই বছরের মধ্যে প্রথম এমন দরপতন হলো। আবার দেশে ধান-চাল এখন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে প্রায় দুই কোটি টন। আমন উৎপাদন হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টন। চলতি মাস পর্যন্ত এক বছরে আমদানি করা হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টন চাল। সোয়া তিন কোটি টন চাহিদার বিপরীতে দেশে বছরজুড়ে চাল ছিল প্রায় চার কোটি টন। চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি থাকার পরও দাম না কমে কেন বাড়ছে, তার কোনো সদুত্তর কারও কাছে নেই।

জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘শুল্কমুক্ত সুবিধায় চাল আমদানি বেশি হওয়ায় কৃষক ধানের দাম পাচ্ছিল না। এমন কথা আপনারা পত্রিকায় লিখেছিলেন। কৃষক যাতে ভালো দাম পায়, সে জন্য আমরা আবারও শুল্ক আরোপ করেছি। তাই চালের দাম দু-এক টাকা বাড়তেই পারে। এতে অসুবিধা কী? কৃষক তো ভালো দাম পাচ্ছে।’

কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ সরকার প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহমূল্য নির্ধারণ করেছে ২৪ টাকা। কিন্তু বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি ধান ১৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২২ টাকা ৫০ পয়সা করে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উদ্বৃত্ত থাকার পরও দেশে কেন চালের দাম বাড়ছে, জানতে চাইলে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম লায়েক আলী বলেন, আমদানির শুল্ক আরোপের পর ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়েছেন। আবার ধানের দামও একটু বেড়েছে। তাই চালের দাম সামান্য বেড়েছে।’

এদিকে বাংলাদেশে চালের দাম না কমার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সম্মানিত ফেলো ও অর্থনীতিবিদ এম আসাদুজ্জামান বলেন, চালের বাজার ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে গলদ চলছে। বাজারে সরকারের তদারকি নেই।’