ধামরাইয়ে প্রেমিককে দায়ী করে গণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, সঙ্গীত শিক্ষকের আত্মহত্যা

ধামরাই প্রতিনিধি : সাভারে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে নিজের প্রেমিক তন্ময় পালের পরিবারের সদস্যদের ছবি ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে প্রিয়াংকা পাল লিখেন, আমার আত্মহত্যার জন্য এরা দায়ী। প্রিয়াংকার বাড়ী ধামরাইয়ের পাঠানতলায়।

রবিবার দুপুরে উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের কালামপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সমাজ ও জাতি গঠন’ (সজাগ) এর কার্যালয়ের সপ্তম তলার একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে প্রিয়াংকা পালকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে প্রতিষ্ঠানের অন্যকর্মীরা। এনজিও প্রতিষ্ঠান সজাগ-এর সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন প্রিয়াংকা পাল। ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস দেখার পর প্রিয়াংকার বাসায় ফোন করেন পরিচিত জনেরা। পরে প্রিয়াংকার কর্মস্থলে যোগাযোগ করেন তার পরিবার।
সবাই দ্রুত ছুটে এলেও বাঁচানো যায়নি প্রিয়াংকা পালকে। সজাগের অফিসের একটি কক্ষ থেকে প্রিয়াংকার গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রিয়াংকার ছোট ভাই আশুতোশ পাল জানান, প্রিয়াংকা-তন্ময় প্রেমিকযুগল। দীর্ঘ আট বছর ধরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক। স্বপ্ন ছিলো বিয়ে করে সংসার করবে। কিন্তু বাঁধ সাধে তন্ময় পালের বাবা-মাসহ পুরো পরিবার। তারা প্রিয়াংকাকে কখনই মেনে নিবে না বলে জানিয়ে দেন। এরপর নিরুপায় তন্ময় পাল বেশ কিছুদিন যাবত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখে প্রিয়াংকার সাথে। কিন্তু এতে প্রবলভাবে ভেংগে পরে প্রিয়াংকা পাল। তার ফলশ্রুতিতেই হয়ত আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেন প্রিয়াংকা পাল।

জানা যায়, ধামরাইয়ে ঐতিহ্যবাহী মতিপাল মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্ত্বাধিকার সুশীল পালের ছেলে তন্ময় পাল। প্রিয়াংকা পাল গণবিশ^বিদ্যালয় ও তন্ময় ঢাকার ড্যাফোডিল প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইংরেজী বিষয়ে ¯œাতক (অনার্স) পাশ করেছে। বর্তমানে তন্ময় সিলেটে একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে কর্মরত আছেন।

সজাগ এনজিও’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মুর্তুজা হোসেন জানান, ধামরাই পৌর শহরের উত্তর পাঠানটোলা (সৈয়দপুর) মহল্লার প্রহল্লাদ পালের মেয়ে অবিবাহিতা প্রিয়াংকা পাল (২৫) সংগীত শিক্ষক হিসেবে কাজ করে আসছিল আমাদের প্রতিষ্ঠানে। সপ্তাহে দুইদিন অফিসে এসে ছোটছোট ছেলেমেয়েদের গান শেখাতো প্রিয়াংকা। রোববার দুপুরে অফিসের ৭ম তলার একটি কক্ষে গলায় উড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে সে। প্রেমঘটিত কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে বলে জানান তিনি। এতে একটি চিরকুটও পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে এসআই কামরুজ্জামান লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। আত্মহত্যার বিষয়টি রহস্যজনক বলে ধারণা করছে এস আই কামরুজ্জামান।
ধামরাই থানার ওসি রিজাউল হক জানান, আমরা অপমৃত্যুর আলামত পেয়েছি। মেয়ের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করলেও পুলিশ নিজে বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, আত্মহত্যার পূর্বে প্রিয়াংকা পাল তার প্রেমিক তন্ময় পালের পরিবারকে অভিযুক্ত করে ফেসবুকে যে স্ট্যাটাস দেন তার কিছুক্ষণ পর থেকেই নিহতের ফেসবুক আইডি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভেটেড করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তন্ময় পালের কাছে প্রিয়াংকার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড ছিল।

সেই প্রিয়াংকা পাল ও নিজের ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভেট করেছে। কারণ ফেসবুকে তন্ময় পালের আইডিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও মৃত্যুর আগে একটি চিরকুটে নিজের প্রেমিক তন্ময় পালের ঠিকানা লিখে রেখে গেছেন প্রিয়াংকা পাল।