জঙ্গি শেষ হয়েছে এটা বলা যাবে না: ডিএমপি কমিশনার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার স্মৃতিতে নির্মিত ভাস্কর্য ‘দীপ্ত শপথ’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এই কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এধরনের হামলা হয়। এটি একটি গ্লোবাল সমস্যা।  তারপরও আমাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে। জনগণের সমর্থনে আমরা এই ধরনের হামলা আর হতে দেইনি।  তবে বিচ্ছিন্নভাবে তাদের (জঙ্গি) অপতৎপরতা থাকতেই পারে এবং সেটা রয়েছে। এটা আমরা অস্বীকার করবো না। তবে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট দিনরাত পরিশ্রম করছে।’

দেশে ছোট-বড় ৭০টি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘জঙ্গিরা যেখানেই থাকুক তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।’ ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ‘জঙ্গিবাদ স্তব্ধ না করতে পারলে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। হলি আর্টিজান হামলার পর আমাদের দেশ থেকে অনেক বিনিয়োগকারী, কূটনীতিক, ক্রেতা-বিক্রেতা চলে যেতে চেয়েছিলেন। তবে আমরা জঙ্গীবাদ রুখে দিয়েছি।  জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় আরও যা যা করা দরকার আমরা করবো। বাংলাদেশে কোনও ধরনের জঙ্গিবাদের বিস্তার হতে দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘হলি আর্টিজান হামলা-মামলার মতো একটি জটিল  মামলার তদন্ত আমাদের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের মেধাবীরা শেষ করেছে। জড়িতরা অনেকে এনকাউন্টারে মারা গেছে, অনেকের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। আমরা আশাকরি আইনের মাধ্যমে জড়িতরা শাস্তি পাবে।’ মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘হলি আর্টিজান হামলা ছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এক সুগভীর ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রের দিনে আমরা জীবনবাজী রেখে যুদ্ধ করেছি। সেদিন আমাদের পুলিশ অফিসার রবিউল করীম ও সালাউদ্দিন কান শহীদ হয়েছেন। তারা জীবন উৎসর্গ করেছেন।  আমরা তাদের হারানো শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করেছি। আমরা শক্তি সঞ্চয় করে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। জঙ্গি অভিযানে বিশ্বে আমরা নজির স্থাপন করছি। ভিকটিমদের উদ্ধার করেছি জঙ্গি আস্তানা থেকে।’

হলি আর্টিজান হামলায় নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার স্মৃতি ভাস্কর্য হলি আর্টিজান এলাকায় না করে গুলশান পুরাতন থানা এলাকায় করার বিষয়ে কমিশনার বলেন, “হলি আর্টিজান এলাকাটি ব্যক্তি মালিকানাধীন। গুলশানের জমির অনেক দাম। আমরা মালিকের সঙ্গে কথা বলছিলাম। কিন্তু তিনি সেখানে জমি দিতে রাজি হননি। তাই আমরা আজাদ মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ‘দীপ্ত শপথ’ তৈরি করেছি। এখানে নতুন প্রযন্ম তাদের ত্যাগের কথা জানতে পারবে।”