ক্রাচে ভর দিয়ে দাড়ানো কোচ অস্কারের কাঁধে ভর দিয়েই কোয়ার্টারে উরুগুয়ে

ফুলকি ডেস্ক: টেকনিক্যাল এরিয়ায় এক হাতে ক্রাচে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, অন্য হাতে ইশারা করে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন খেলোয়াড়দের। বিশ্বকাপে উরুগুয়ের ম্যাচ চলাকালে মাঝেমধ্যে টিভি পর্দায় ভেসে ওঠে দৃশ্যটি। মানুষটিকে সবারই চিনে থাকার কথা। তিনি উরুগুয়ের কোচ অস্কার তাবারেজ। ৭১ বছর বয়সে ক্রাচের ওপর ভর করেই দিব্যি সামলাচ্ছেন এডিনসন কাভানি-লুইস সুয়ারেজদের মতো বিশ্বতারকাদের।

বয়স কম হয়নি। সঙ্গে ভুগছেন গুলেনবেরি সিনড্রোম নামে ভয়ংকর এক রোগে। এতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধীরে ধীরে অবশ হয়ে আসে। ফলে তাঁকে এখন ক্রাচের ওপরই ভর করে চলতে হয়। কিন্তু পুরো উরুগুয়ে তাঁর ওপরই ভর করে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে। গতকাল শেষ ষোলোয় থেমে গেল রোনালদোর পর্তুগালের গর্জনও। প্রথমবারের মতো ইউরো শিরোপা জয় করে পর্তুগিজরা বড় স্বপ্ন নিয়েই এসেছিল বিশ্বকাপে। কিন্তু তাবারেজের ক্ষুরধার মস্তিষ্কের সামনে তল্পিতল্পা গুছিয়ে এখন দেশের বিমান ধরার অপেক্ষায় রোনালদোরা।

এভাবেই মাঠে আসেন তাবারেজ। ছবি: রয়টার্স

এভাবেই মাঠে আসেন তাবারেজ

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে উরুগুয়ের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা ছিলেন রোনালদো। এক হ্যাটট্রিকসহ ৪ গোল করা রোনালদোকে কাল কীভাবে থামালেন তাবারেজ, তা তো দেখাই গেছে। রোনালদো সাধারণত বাঁ প্রান্ত থেকে ডি–বক্সের দিকে আড়াআড়ি প্রবেশ করে পোস্টে শট করেন। সেই রোনালদোকে কাল থামিয়ে দিয়েছেন ট্রেডমার্ক শুটিং জোনে পায়ের জঙ্গল বাড়িয়ে। স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা রোনালদো বল নিয়ে যতই আড়াআড়ি ঢুকুক না কেন, শট নিতে গেলেই ব্লক। কোনো ফাউলও করা হয়নি। যাতে বক্সের আশপাশ থেকে ফ্রি-কিক নিতে না পারেন মাদ্রিদ তারকা। কী নিখুঁত ট্যাকটিকস।

কোথায় কী করতে হবে, তাবারেজের চেয়ে ভালো আর কজনই–বা জানেন! উরুগুয়েকে নিয়ে টানা তৃতীয় ও সব মিলিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপে এসেছেন। রাশিয়া বিশ্বকাপে দলটি তো দুর্দান্ত এক প্যাকেজ। আক্রমণভাগে কাভানি-সুয়ারেজরা প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে নিমেষেই দুমড়েমুচড়ে ফেলছেন। মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়েও তাঁরা এগিয়ে। আর রক্ষণভাগ কেমন? চার ম্যাচে গোল হজম করেছে মাত্র একটি।

অথচ এমন এক দলকেই এক সুতোই বেঁধে রেখেছেন ক্রাচে ভর করে। বেশির ভাগ সময়ই ডাগআউটের বেঞ্চে বসে থাকেন শান্ত হয়ে। শিষ্যদের দুর্দান্ত গোলে অন্য কোচদের মতো বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে পারেন না। শুধু দল বিপদে পড়লেই ক্রাচে ভর করে টেকনিক্যাল এরিয়ায় গিয়ে দাঁড়ান। গুরু সাইড লাইন ঘেঁষে ক্রাচে ভর করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তা দেখেই তো পুনরায় জেগে ওঠেন সুয়ারেজ-কাভানিরা। আর তাই তো ম্যাচ শেষে কাভানিদের ছাপিয়ে নায়ক হয়ে ওঠেন অস্কার তাবারেজ।