২৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বিনা পয়সায় বাস্তবায়ন!

: যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে ২৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল তা উদ্ধুদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে বিনা পয়সায় বাস্তবায়নের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক স্তরের দেড় কোটি ছাত্র-ছাত্রীদের মিড ডে মিল চালু করা সম্ভব হয়েছে তাদের মা-বাবা ও অভিবাবকদের উদ্ধুদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে। আর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেছেন, ‘এটা তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।’

বাংলাদেশে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৯০১টি। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ৩২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাথমিক স্তরে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ৭২ লক্ষ ৫১ হাজার ৩৫০। এর মধ্যে বেশিরভাগই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। দারিদ্রপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় ৯৩টি উপজেলার ১৫ হাজার ৭০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০ লক্ষ ৭৫৮ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৫ গ্রাম ওজন বিশিষ্ট প্যাকেট বিস্কুট সরবরাহ করা হয়।

সরকার পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই স্কুলে দুপুরে খাবার নিয়ে আসেন না। ফলে ক্ষুধার্ত পেটে ক্লাস করতে গিয়ে তারা মনোযোগ হারায়। এতে শিক্ষার গুনগত মান নষ্ট হয়। যাতে ঝড়েপড়ার সংখাও বেড়ে যাচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন, আমরা স্কুলগুলোতে মিড ডে মিল চালুর জন্য একটি উদ্যোগ গ্রহণ করি। এ সম্পর্কিত সমীক্ষা রিপোর্টে দেখা যায় সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিড ডে মিল চালু করতে গেলে বছরে ২৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। যেটা এই মুহুর্তে সরকারের পক্ষে বহন করা কঠিন। তিনি জানান, ওই সমীক্ষা রিপোর্টের পরই আমি বিকল্প চিন্তা করতে শুরু করি। আমি বলছি, স্কুল থেকে শিশুরা বাসায় ফিরে যে খাবারটি খায় সেটাই যেনো তার মা তাকে দিয়ে দেয়।

তিনি জানান, প্রথমে আমি এটা আমার নির্বাচনী এলাকায় বাস্তবায়ন করি। পরে জেলা এবং বিভাগে বাস্তবায়ন করি। এরপরে ধীরে ধীরে এটা সারাদেশে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেই। প্রায় ৯৬ শতাশং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তা মা ও অভিবাবকরা একটি বাটিতে খাবার দিয়ে দিচ্ছে। দুপুরে সব শিক্ষার্থী এক সঙ্গে বসে খাবার খাচ্ছে। ফলে তাদের আর ক্ষুধার্ত পেটে থাকতে হচ্ছে না। তাদের মনোযোগও নষ্ট হচ্ছে না। মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন, আমি সকল মায়েদের কাছে তার সন্তানের জন্য একটি টিফিনের বাটি কিনে দেয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিলাম। বলেছিলাম, মাত্র ৩০টাকা দিয়ে একটি বাটি কিনে দেন। বাসায় বাচ্চাকে যা খাওয়ান তা-ই ওই বাটিতে দিয়ে দেন। আমি কৃতজ্ঞ সবাই আমার এ আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন।

ইতিমধ্যে ৯৬ শতাংশ বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা টিফিন বাড়ি কিনে দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, উদ্ধুদ্ধকরণের মাধ্যমে সারাদেশে মিড ডে মিল চালু হয়েছে। এটা একটি রেকর্ড হয়ে থাকলো। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ই শুধু নয়। আমার জীবনে এটি শ্রেষ্ঠ সাফল্য বলে আমি মনে করি।