ধামরাইয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক সেনাসদস্যের বাড়িতে কলেজছাত্রীর অনশন

ধামরাই  প্রতিনিধি : ধামরাইয়ের আমতা ইউনিয়নের আমতা গ্রামে বিয়ের দাবিতে সোনিয়া আক্তার (ছদ্মনাম) নামে এক কলেজছাত্রী গত বুধবার থেকে প্রেমিক সেনাসদস্যের বাড়িতে অনশন করছেন। বিয়ে না করলে ওই কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দিয়েছে। সেনাসদস্য গা ঢাকা দিয়েছে। একটি অসহায় মেয়ে তার নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় বিয়ের দাবিতে সংগ্রাম ও অনশনের বিষয়টি অমানবিক বিধায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ধামরাইয়ের আমতা গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে সেনাসদস্য রাসেল আহম্মদ সুমন একই গ্রামের কলেজ পড়–য়া মেয়ে সোনিয়া আক্তারের (ছদ্ম নাম) সঙ্গে দীর্ঘ চার বছর ধরে প্রেম করে আসছিল। বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর ছয় মাস আগে বিয়ের কথা হয়। সম্প্রতি সেনাসদস্য রাসেল আহম্মদ সুমন বিয়ে করার জন্য দুমাসে ছুটি নিয়ে বাড়ি আসে। এরপর বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে পাত্রী দেখা শুরু করে সুমন ও তার স্বজনরা। এদিকে সোনিয়াকে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দেয় সুমন । এতে নিরুপায় হয়ে সোনিয়া বিয়ের দাবিতে গত বুধবার সেনাসদস্যের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করে। এ খবর পেয়ে উৎসুক জনতা ওই বােিড় জড়ো হচ্ছে। সুমন এলাকাতেই গা ঢাকা দিয়ে আছে।

শুক্রবার স্থানীয় একদল সাংবাদিক ওই সেনাসদস্যের বাড়িতে গেলে অনশনরত সোনিয়া জানায়,‘ আমার ও সুমনের প্রেমের সম্পর্ক এলাকার অনেকেই জানে এবং এলাকায় চাউর হয়ে গেছে। সুমন বিয়ের প্রলোভন দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে দীর্ঘ চার বছর বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছে। কিন্তু এখন সে আমাকে তো বিয়ে করবেই না বরং হত্যার করার হুমকি দিচ্ছে। আমার পথ একটাই নয় বিয়ে না হয় এখান্ইে আমার সমাধি হবে’।

এব্যাপারে সুমনের বাবা খোরশেদ আলম তার ছেলের সঙ্গে সোনিয়ার দীর্ঘদিন ধরে ভালবাসার সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, আমার ছেলে সোনিয়াকে বিয়ে করার জন্য রাজী ছিল কিন্তু এখন তাকে বিয়ে করবে না। আমরাতো ছেলেকে জোর করে বিয়ে করাতে পারি না।

এব্যাপারে স্থানীয় আমতা ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে।  আগামীকাল (আজ শনিবার) সালিশ বৈঠক বসে বিষয়টি মিমাংসা করা হবে।