সার্বিয়াকে হারিয়ে নক আউট এ ব্রাজিল

ফুলকি ডেস্ক: রাশিয়া বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে তত নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে ব্রাজিল। আগের ম্যাচে যোগ করা সময়ের গোলে জেতা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা এবার জিতল অনায়াসে। সার্বিয়াকে দুই অর্ধের দুই গোলে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে গেল শেষ ষোলোতে।

মস্কোয় ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছে ব্রাজিল। পাওলিনিয়োর গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় তিতের শিষ্যরা। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন চিয়াগো সিলভা। নেইমার বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরও বাড়তো।

একই সময়ে হওয়া অন্য ম্যাচে কোস্টা রিকার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করা সুইজারল্যান্ড রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে।

আগামী সোমবার দ্বিতীয় রাউন্ডে ‘এফ’ গ্রুপ রানার্সআপ মেক্সিকোর বিপক্ষ খেলবে ব্রাজিল। পরদিন ‘এফ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন সুইডেনের বিপক্ষে খেলবে সুইজারল্যান্ড।

মস্কোর স্পার্তাক স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে শুরুতেই বড় একটা ধাক্কা খায় ব্রাজিল। চোট পেয়ে দশম মিনিটে মাঠ ছাড়েন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার মার্সেলো। তার জায়গায় এবারের আসরে প্রথমবারের মতো মাঠে নামেন আতলেতিকো মাদ্রিদের ফিলিপে লুইস।

চোটের জন্য বিশ্বকাপেই নেই দানি আলভেস। প্রথম ম্যাচ খেলার পর চোটে পড়েন দানিলো। এবার মাঠের বাইরে চলে গেলেন মার্সেলো। রক্ষণ গুছিয়ে নিতে একটু সময় নেয় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

গাব্রিয়েল জেসুস, ফিলিপে কৌতিনিয়ো আর নেইমার দ্রুত গতিতে আক্রমণে গিয়ে ভীতি ছড়ান সার্বিয়ার রক্ষণে।

জেসুস, নেইমারের কারিকুরিতে ২৫তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম ভালো সুযোগ পায় ব্রাজিল। ডি-বক্স থেকে পিএসজি ফরোয়ার্ডের শট হাত বাড়িয়ে ব্যর্থ করে দেন গোলরক্ষক ভ্লাদিমির স্তয়কোভিচ।

৩৬তম মিনিটে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন পাওলিনিয়ো। মাঝমাঠ থেকে বার্সেলোনা সতীর্থ ফিলিপে কৌতিনিয়োর বাড়ানো বল প্রথম স্পর্শেই আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান এই মিডফিল্ডার।

শুরু থেকে রক্ষণে মনোযোগ দেওয়া সার্বিয়া পিছিয়ে পড়ার পর একটু আক্রমণাত্মক খেলে। তবে ব্রাজিলের জমাটরক্ষণ ভেঙে আলিসনের পরীক্ষা নিতে পারেনি একবারের জন্যও। প্রথমার্ধে ম্লাদেন ক্রাস্তাইচের শিষ্যরা লক্ষ্যে রাখতে পারেনি কোনো শট।

৫৬তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ এসে যায় নেইমারের সামনে। কৌতিনিয়োর বাড়ানো বল যখন তাকে খুঁজে সামনে ছিলেন কেবল গোলরক্ষক। নেইমারের শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন স্তয়কোভিচ।

পরের কয়েক মিনিট ব্রাজিলের রক্ষণকে ভীষণ চাপে রাখে সার্বিয়া। ৬১তম মিনিটে একটি ক্রস ঠিকমতো পাঞ্চ করে বিপদমুক্ত করতে পারেননি, বল পেয়ে যান আলেকসান্দার মিত্রোভিচ। এই ফরোয়ার্ডের হেড সিলভার হাঁটুতে লেগে ফিরে।

চার মিনিট পর আবার সুযোগ আসে মিত্রোভিচের সামনে। তবে আলিসন বরাবর হেড করে দলকে হতাশ করেন এই ফরোয়ার্ড।

 

৬৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সিলভা। পিএসজি সতীর্থ নেইমারের কর্নারে লাফিয়ে হেডে বল জালে পাঠান এই ডিফেন্ডার।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়া সার্বিয়াকে ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগ দেয়নি ব্রাজিল। মাঝমাঠ দৃঢ় করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে তারা।

শেষের দিকে গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ব্রাজিল। ৮৬তম মিনিটে সার্বিয়ার এক খেলোয়াড়ের পায়ে লাগার পর বল পেয়ে যান নেইমার। গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে তুলে দিয়েছিলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। কিন্তু হাত বাড়িয়ে কোনোরকমে বলের নাগাল পেয়ে যান স্তয়কোভিচ।

যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ডি-বক্স থেকে নেইমারের শট ঝাপিয়ে ব্যর্থ করে দেন স্তয়কোভিচ। আরেকবার অল্পের জন্য গোল থেকে বঞ্চিত হন নেইমার।

স্নায়ু চাপ যা ছিল কোস্টা রিকা ম্যাচে ফেলে এসেছেন নেইমার। সার্বিয়ার বিপক্ষে গোল না পেলেও ম্যাচ শেষ দলের সেরা তারকাকে দেখা গেল হাসিখুশি।

এ নিয়ে টানা ত্রয়োদশবারের মতো নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল ব্রাজিল। অন্যদিকে কোস্টা রিকাকে হারিয়ে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা সার্বিয়া টানা দুই ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল।