ট্রামকে বোকা বানিয়েছে কিম

ফুলকি অনলাইন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের ঐতিহাসিক বৈঠকের পর অনেকেই মনে করেছেন পারমাণবিক অস্ত্র থেকে সরে আসছে দেশটি। ট্রাম্পকেও সে ধরনেরই কথা দিয়েছেন কিম।

কিন্তু পারমাণবিক স্থাপনার উন্নয়ন কাজের গতি উত্তর কোরিয়া বাড়িয়ে দিয়েছে বলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ছবি সংগ্রহের পর জানতে পেরেছে মার্কিন গবেষণা গ্রুপ ‘থার্টি এইট নর্থ’। পরে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তারা।

থার্টি এইট নর্থ বলছে, উত্তর কোরিয়ার ইয়ংবিয়ুন পরমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। সেখানে ওয়াটার কুলিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং একটি কুলিং ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে দু’টি ভবন। কেন্দ্র পরিদর্শনকারী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জন্য তা ব্যবহার করা হতে পারে।

চলতি বছরের ১২ জুন সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, উত্তর কোরিয়া এখন আর পরমাণু হুমকি নয়।

বৈঠকের পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে থেকে আর কোনো পারমাণবিক হুমকি নেই। অথচ ১০ দিন পর এসে সেই ট্রাম্প ভিন্ন কথা বলছেন। উত্তর কোরিয়াকে ‘অস্বাভাবিক হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

এমন সময় এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার ঘোষণা এলো যখন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বেশ কয়েকটি সামরিক মহড়া স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের দাবি, কূটনৈতিক সমঝোতাকে সমর্থন জানাতেই মহড়া স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহে উভয় দেশের আরেকটি বড় ধরনের মহড়া স্থগিত করা হয়েছিল।

২০০৮ সাল থেকেই উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি রেখেছে। এরপর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্টরা এই অবস্থা নিয়মিত জারি এবং উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে গেছেন। গত শুক্রবার ট্রাম্প এই জাতীয় জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরো বাড়িয়েছেন।

মার্কিন কংগ্রেসকে এক নোটিশে ট্রাম্প জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার সরকারের পদক্ষেপ ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রের কারণে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি। এর ফলে দীর্ঘদিন চলে চলমান নিষেধাজ্ঞাও জারি থাকছে। এতে করে ওয়াশিংটনে উত্তর কোরিয়ার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন।

ট্রাম্পের ঘোষণায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে। এক দশক আগে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ।