গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরদিন কেন্দ্রে মিলল সিলমোহরযুক্ত ব্যালট (ভিডিও)

 

 

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার একদিন পর ২নং ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে সিলমোহরযুক্ত কয়েকশ পরিত্যক্ত ব্যালট পেপারের সন্ধান মিলেছে। এ ঘটনায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া আওয়ামীগ লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীরা দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচের অভিযোগে ‘ভোট ডাকাতির অভিযোগ’ এনেছেন। প্রতিবাদে  বৃহস্পতিবার এলাকায় শাখা সড়কে বিক্ষোভ করেছেন কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকরা।
বুধবার সকালে চক্রবর্তী এলাকার সিনকা প্রি-ক্যাডেট স্কুল কেন্দ্রের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সিলমোহরযুক্ত ব্যালট পেপারগুলো পড়ে থাকতে দেখেন বিদ্যালয়ের দপ্তরি। পরে তিনি বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানান।
প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, স্কুলের দপ্তরি বুধবার সকালে অফিস কক্ষ খুলে ঝাড়ু দেওয়ার সময় ব্যালট পেপারগুলো পড়ে থাকতে দেখে তাকে খবর দেন। পরে তিনি স্কুলে গিয়ে কেন্দ্রের মধ্যে অনেক ব্যালট পেপার পড়ে থাকতে দেখেন। এমনকি কেন্দ্রের জানলা দিয়ে বাইরে ফেলা বেশ কিছু অর্ধেক অংশ পুড়িয়ে ফেলা অনেক ব্যালট পেপার ওই সময় খুঁজে পান তারা।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ২নং ওয়ার্ডের সরকারি দল আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী আব্দুল হালিম অভিযোগ করে বলেন, কেন্দ্রটিতে দায়িত্বরত পুলিশের দুই উপ-পরিদর্শক কামরুজ্জামান (ধামরাই থানায় কর্মরত) ও আমিনুল ইসলাম (ঢাকা জেলা উত্তর ডিবিতে কর্মরত) তার কাছে ভোটে জিততে হলে ১০ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন। তবে তিনি তাদের কথা না শোনায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার ‘মিষ্টি কুমড়া’ প্রতীকের সিলমোহরযুক্ত ব্যালট পেপারগুলো রাতের আঁধারে পুলিশের সহযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা মমতাজউদ্দিন মন্ডল এভাবে নষ্ট করেছেন।
কাউন্সিলার প্রার্থী হাজী আব্দুল হালিম বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ইউনিয়নটি সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হলে তা ২ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত হয়। এখন তিনি ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগেরও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এলাকার মানুষ তাকে ভালোবেসে ভোট দিলেও টাকার বিনিময় কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী ২ পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থীর হয়ে তার ‘ভোট ডাকাতি’ করেছে। একই অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর প্রার্থী পারভিন আক্তার।
এছাড়া মেয়র পদে নৌকা প্রতীকের হয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কেন্দ্রের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাসুদ নামে একজন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা উৎকোচ দাবি করেন। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে কীভাবে নৌকা প্রতীক নির্বাচনে জয়লাভ করবে সেটাও তারা দেখে নেবে বলেও হুমকি দেন। পরে নির্বাচনের দিন কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে তাকে প্রথমে ঘাড় ধরে বের করে দেন উপ-পরিদর্শক কামরুজ্জামান ও আমিনুল ইসলাম। এসময় বাধা দিলে তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন তারা। পরে সেখান থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যান তিনি।
এ খবর জানানো হলেও নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউই ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকা জেলার ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অপর পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২নং ওয়ার্ডের প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা দাবি করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কেন্দ্রে এক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রসঙ্গত, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের পাঁচটি কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার। এর মধ্যে সিনকা প্রি-ক্যাডেট স্কুল কেন্দ্রটির অধীন ভোটার রয়েছে প্রায় ৬ হাজার।