ধলেশ্বরী নদী দখল দেখার আগে আমার মরে যাওয়া ভালো ছিল : নদী রক্ষা কমিশন চেয়ারম্যান

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেছেন, ধলেশ্বরী নদীর অবৈধ দখল দেখার আগে আমার মরে যাওয়া ভালো ছিল। আমি এমনভাবে নদী দখল দেশের কোথাও দেখিনি। শুধু নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানই নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এ দখলের চিত্র আমাকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদী দখলের চলমান দৃশ্য সরেজমিনে দেখতে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেই সাথে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজসের অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে তাদের ভর্ৎসনা করেন। সেই সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের কান্ডজ্ঞান নিয়ে প্রশ্নও তুলেন নদী রক্ষা কমিশন চেয়ারম্যান। তিনি আরো বলেন, যারা এ দখলকে অ্যালাউ করেছেন তাদের ফাঁসি দেয়া উচিত। নদী দখলের আইনগত কোন সুযোগ নেই। দ্রুত ধলেশ্বরী নদীর সমস্ত অবৈধ দখল বন্ধ করাসহ উচ্ছেদের নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথার উদ্বৃতি দিয়ে ড. মুজিবুর বলেন, উন্নয়নের নামে নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাধার দখল ও ভরাট করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এ সংক্রান্ত আইনও তৈরি হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, ধলেশ্বরী নদীর দখলদাররা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও আইনকে অমান্য করে নদীর পুরোটাই গ্রাস করে ফেলেছে। এ সময় তিনি দখলের চিত্র ভিডিও ধারণ করে নিয়ে যান, যা প্রধানমন্ত্রীকে দেখিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আহবান জানাবেন বলে তিনি জানান। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্ব) পংকজ ঘোষ, সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ যুবায়ের, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ হামিদুর রহমানসহ সিংগাইর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, সিংগাইর উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত ধলেশ্বরী নদীর চর জেগে উঠলে ১৯৮৬-৮৭ সালে চাষাবাদের জন্য ভূমিহীনদের ১৫ বছর মেয়াদি বন্দোবস্ত দেয়া হয়। পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে অনেক ভূমিহীন বন্দোবস্ত পাওয়া জমি নাম মাত্র টাকায় প্রভাবশালীদের কাছে হস্তান্তর করেন। আবার অনেকের জমি দখল করে নেয় প্রভাবশালীরা। মূলতঃ এই প্রভাবশালীরা পরবর্তী সময়ে সব জমি ভরাট করে  বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে ২০১২ সালে সিংগাইর উপজেলা  কৃষি ব্যবস্থাপনা কমিটির   এক সভায় বন্দোবস্ত দেয়া ২৯৭টি কেস বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ি,২০১২ সালের ১১ অক্টোবর ১৬৪৩ নম্বর স্মারকের ভূমি মন্ত্রনালয়ের পাঠানো চিঠিতে তৎকালিন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুন্সী শাহাবুদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, ওই সব জমি বছরের বেশির ভাগ সময় ধলেশ্বরী নদীর পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এখানে স্থাপনা গড়ে তোলা হলে  নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হবে, যা পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। নদী তথা পরিবেশ রক্ষায় তিনি এই ২৯৭টি বন্দোবস্ত কেস বাতিলের ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন। সে থেকে ধল্লা মৌজার বন্দোবস্ত দেয়া খাস জমি হস্তান্তর , নামজারি , খাজনা গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়।  সে অনুযায়ি দীর্ঘদিন ওইসব জমির সকল দালিলিক কার্যক্রম স্থগিত থাকে। সম্প্রতি সিংগাইরে ধলেশ্বরী নদীর উপর ভাষা শহীদ রফিক সেতুর উত্তর পাশে নদী ভরাট করে  বেশ কিছু স্থাপনা গড়ে ওঠেছে। সেতুর মাত্র ২‘শ মিটার উত্তরে  নর্দাণ পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের নির্মাণ কাজ চলছে। এ নিয়ে গত ৪ জুন স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন চেয়ারম্যান বরাবর ৩ শতাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ছাড়া পদ্মা গ্রুপ অব কোম্পানীজ হাই কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।