রেলে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে এক হাজার ১৬৫ আধুনিক ইঞ্জিন ও বগি

স্টাফ রিপোর্টার : সড়কে যানজটের ভোগান্তিতে যাত্রীদের তুলনামূলক কম ভাড়ার কারণে অভ্যন্তরীণ ও আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনেও ব্যবসায়ীদের নির্ভরতা রেলপথেই বেশি। দিন দিন এ নির্ভরতা বেড়েই চলেছে। তবে পুরানো ইঞ্জিন ও বগি দিয়ে চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে রেল। এ অবস্থায় বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে রেলে। এজন্য রেলের যাত্রী ও পণ্য সেবার মান বাড়াতে নতুন করে ১ হাজার ১৬৫টি আধুনিক বগি, ইঞ্জিন ও মালবাহী ওয়াগন কেনা হচ্ছে।
প্রকল্পটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬০২ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পটিসহ মোট ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলোর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তথবিল থেকে পাওয়া যাবে ১৩ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা, প্রকল্প সাহায্য থেকে আসবে ২ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আধুনিক ইঞ্জিনের মধ্যে ৪০টি ব্রডগেজ ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন), ৭৫টি মিটার গেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ লাগেজ ভ্যান, ৪০০টি মিটার গেজ ও ৩০০টি ব্রডগেজ কাভার্ড ভ্যান এবং ১৮০টি মিটারগেজ ও ১২০টি ব্রডগেজ বগি ওপেন ওয়াগন বা বগি সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ব্রডগেজ ও মিটারগেজ লাগেজ ভ্যানের জন্য বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ এবং ক্যাপিটাল ও মেনটেইন্যান্স স্পেয়ার্সও সংগ্রহ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে এই সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৩৬টি একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় মোট ১ হাজার ১৩৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল খরচ ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৫ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ হবে ৩৭ হাজার কোটি টাকা।
তিনি জানান, একক কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী না রেখে প্রয়োজনে দেশের প্রত্যেক জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে তিনি এ নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে সারাদেশে ৫৬০ উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ কাম ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। তবে সৌদি আরব টাকা দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।