বিদেশে টাকা পাচার : আল আরাফাহ ব্যাংক পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা

১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা সিঙ্গাপুরে পাচারের অভিযোগে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও পরিচালক বদিউর রহমানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিল থানায় দুদকের উপপরিচালক জালাল উদ্দিন আহাম্মদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বদিউর রহমান আল আরাফা ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালে সিঙ্গাপুরে এম এস এরিয়েল মেরিটাইম প্রাইভেট লিমিটেড নামীয় একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে তিনি ৫ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার সমমূল্যের বাংলাদেশি ১ কোটি ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা স্থানান্তর করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে।

মামলার এজাহার সূ্ত্রে জানা যায়, বদিউর রহমান ১৯৯৫ সাল থেকে অদ্যাবধি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (বাংলাদেশ) পরিচালক হিসেবে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। তিনি ২০০৮ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উক্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালীন বদিউর রহমান সিঙ্গাপুরে ২০০৩ সালে এম এস এরিয়েল মেরিটাইম প্রাইভেট লিমিটেড নামীয় কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন| কোম্পানিটি তিনজন পরিচালক নিয়ে (দুজন শেয়ার হোল্ডারসহ) যাত্রা শুরু করে। অনুমোদিত মূলধন ১০ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার ও পরিশোধিত মূলধন ছিল ৫০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার। এর মধ্যে বদিউর রহমান কর্তৃক বিনিয়োগকৃত মূলধনের পরিমান ২৫ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার সমমূল্যের বাংলাদেশি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা (২০০৩ সাল)। ২০০৪ সাল থেকে উক্ত কোম্পানির একক মালিকানা অর্জন করে পরিচালনা করে আসছেন এবং এ সময়ে উক্ত কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলারে উন্নীত হয়। অর্থাৎ এ সময়ে উক্ত ৫ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার সমমূল্যের বাংলাদেশি ১ কোটি ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা বর্ণিত সিঙ্গাপুরস্থ কোম্পানির মূলধন বাবদ বদিউর রহমান কর্তৃক বিনিয়োগ করা হয়। উক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ক্ষেত্রে তার মূলধনের বৈধ উৎস বিষয়ে বদিউর রহমান গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে পারেননি।

৫ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার সমমূল্যের বাংলাদেশি ১ কোটি ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮০০ টাকার প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা গোপন করে দেশে বিদ্যমান আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিঙ্গাপুরে পাচার করে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে এবং তা ভোগ করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে বদিউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।