সাভার কলেজের ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্কুল প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

 সাভার কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে ডেইরী ফার্ম হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সাভার উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়নের সন্দীপ মহল্লায় গত বৃহস্পতিবার রাতে এলাকাবাসির হাতে হামলার শিকার হন সাভার কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র কল্যাণ সরকার হৃদয় (২৪) ও তার বন্ধু মামুন মিয়া (২৭)। পরে তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে এলাকাবাসি হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে কল্যাণ সরকার হৃদয় মারা যায়। সে সাভার ডেইরী ফার্মের পাওয়ার পাম্প চালক রতন সরকারে ছেলে। তারা ডেইরী ফার্মের কোয়াটারে বসবাস করেন।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, ডেইরী ফার্ম কোয়াটারে বসবাসকারী রতন সরকারের ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্র কল্যাণ সরকার হৃদয় গত ২০ জুন বুধবার রাতে তার বন্ধুকে নিয়ে সন্দীপ এলাকায় মটর সাইকেলে ঘুরতে যায়। এসময় রাস্তায় অপেক্ষাকৃত ডেইরি ফার্ম স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুল কুদ্দুসসহ ১০/১২ জন লোক তাদের মটর সাইকেল থামিয়ে কিছু বুঝে উঠার পূর্বে শত্রুতার জেরধরে কল্যাণ সরকার হৃদয় ও মামুনের উপর রডসহ ধারালো অস্ত্রদিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তাদের ছেড়ে দেয়। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে কল্যাণ সরকার হৃদয়ের অবস্থা গুরুতর মনে হলে ২৪ জুন রবিবার তাকে সাভার বাসস্ট্যান্ডের সুপার ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সুপার ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত ডাক্তার হৃদয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক মনে করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রের্ফাড করেন। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কল্যাণ সরকার হৃদয় মঙ্গলবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন। এঘটনায় নিহতের মা রিতা রানী বিশ্বাস বাদী হয়ে সাভার ডেইরীফার্ম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুল কুদ্দুসসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-৬৪। ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩০৭/১১৪। আসামীরা হলেন, আব্দুল কুদ্দুস, রনি, নজরুল, সুমন ও ইয়ার খান।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে কোনভাবেই জড়িত না বলে জানান। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে এলাকাবাসি তাদের মাদক সেবন করার সময়ে ধাওয়া করে গণধোলাই দিয়ে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমাকে একটি মহল ষড়যন্ত্র করে এ ঘটনায় জড়িত করার চেষ্টা করছে।
অপরদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী রোজিনা বেগম, মমতাজ বেগম, হামিদা বেগম ও আম্বিয়া খাতুন এবং স্থানীয় মেম্বার আবুল কাশেম জানান, সন্দীপ এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে উজ্জল তাদের টিনসেটের একটি রুমের মধ্যে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার লোকজন নিয়ে মাদক বিক্রয় ও সেবন করে। তারা মাদক সেবন করে মেয়েদের উক্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি এলাকাবাসির নজরে আসলে তারা একত্রিত হয়ে বুধবার রাতে উজ্জলের বাসায় তল্লাশী চালায়। এসময় তারা ডেইরী ফার্ম কোয়ার্টারের বাসিন্দা পাম্প চালক রতন সরকারের ছেলে কল্যাণ সরকার হৃদয় ও তার বন্ধুকে হাতেনাতে মাদক সেবনকালে ধরে ফেলে। এ সময়ে তাদের কয়েকজন মাদকসেবী বন্ধু পালিয়ে যায়। পরে তাদেরকে এলাকাবাসি গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার চেষ্টার চালায়। এসময় তারা এলাকাবাসির হাতে-পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে এবং এই এলাকায় আসবে না বলে প্রতিশ্রুত দিলে এলাকাবাসি তাদের ছেড়ে দেয় বলে জানান তারা।