সৌদি-কাতার দ্বন্দ্বে উদ্বিগ্ন মুসলিম বিশ্ব

ফুলকি অনলাইন: সৌদি আরবের সঙ্গে কাতারের দ্বন্দ্ব আরও বেড়েছে। এবার দেশটির উপ প্রধানমন্ত্রী শেখ আব্দুর রহমান আলে সানি জানিয়েছেন, ইয়েমেনের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে সৌদি জোট যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে আমরা তার বিরোধী। সেখানে সংঘর্ষ নয়, সংকট সমাধানের একমাত্র পথ হচ্ছে আলোচনা। ইয়েমেনি জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা চাইছে কাতার।

বিবিসি, আল জাজিরা সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট, কাতারের অবস্থানের চরম প্রতিক্রিয়া দিতে চলেছে সৌদি আরব ও তাদের মিত্র দেশগুলি। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ ইস্যুতে যেভাবে কাতার সরকার সরাসরি সৌদি আরবের সমালোচনা করল তাতে দুই রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে চলেছে। আগামী ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে এই দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এমনিতেই রাশিয়া থেকে যুদ্ধ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি ঘিরে সৌদি আরবের বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজের হুমকি- সেনা অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন ছড়িয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে লেখা সেই চিঠি প্রকাশ করে দিয়েছে ফরাসি সংবাদ মাধ্যম।

তবে অবস্থানে অনড় কাতার। বিরোধিতার জেরে আগেই কাতারের সীমান্ত অবরোধ করেছে আরব জোটের বিভিন্ন দেশ। দুনিয়ার সর্বাধিক মাথাপিছু আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত কাতারে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট।

কাতারের উপ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনওভাবেইে ইয়েমেনের উপর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট বাহিনীর হামলা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। সেখানে লাগাতার সংঘর্ষে নিরীহদের মৃত্যু হচ্ছে। সেখানে অবিলম্বে সেনা অভিযান বন্ধ করা দরকার।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের নির্বাচিত সরকারের প্রধান মনসুর আল হাদিকে উৎখাত করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা। তারপরেই আক্রমণ শুরু করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশরীয় সেনাবাহিনী।

লাগাতার বোমা বর্ষণ করেও ইয়েমেনের রাজধানী সানা শহর দখল করতে পারেনি সেই জোট। তবে বিখ্যাত এডেন বন্দরটি হুথিদের হাত থেকে পুনরায় জোট সেনা ছিনিয়ে নিয়েছে। সেখান থেকেই সরকার পরিচালনা করেন আরবপন্থী সুন্নি মতাবলম্বী মনসুর হাদি। আর হুথিদের সমর্থন করছে শিয়াপন্থী ইরান। এর জেরে মুসলিম বিশ্ব আড়াআড়ি বিভক্ত।