বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়ার লড়াই

ফুলকি ডেস্ক: মঙ্গলবার সেন্ট পিটার্সবার্গে গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়া। দুই দলের জন্যই ম্যাচটি বাঁচা-মরার লড়াই। তবে পয়েন্ট বিবেচনায় কিছুটা স্বস্তিতে আছে সুপার ঈগলরা। কিন্তু এই ম্যাচে জিততেই হবে লিওনেল মেসিদের। তবেই টিকেট পাবে শেষ ষোলতে যাওয়ার। তবে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার দ্বৈরথের ইতিহাস বেশ পুরনো। এর আগে বিশ্বকাপে ৪ বার দেখা হয়েছে দুই দলের। প্রতিবারই জিতেছে লাতিন দল। কিন্তু আফ্রিকানরাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হার মানেনি। ফলে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়ার দ্বৈরথ মানেই জমজমাট লড়াইয়ের পূর্বাভাস। আসুন জেনে নেওয়া যাক আগের চার ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস—

১৯৯৪, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ

আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়া বিশ্বকাপে প্রথম মুখোমুখি হয় ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে। গ্রুপপর্বে। সেবার দুই দলই পড়েছিল ‘ডি’ গ্রুপে। বোস্টনে ২৫ জুলাইর ম্যাচটিতে প্রথমে এগিয়ে যায় সুপার ঈগলরা। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে স্যামসন সিয়াসিয়ার গোলে ১-০তে এগিয়ে যায় নাইজেরিয়া। কিন্তু ক্লদিও ক্যানিজিয়ার জোড়া গোলে সেই ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ২১ ও ২৮ মিনিটে গোল দু’টি করেন ক্যানিজিয়া। তবে সেবার দুই দলই শেষ ষোলতে ওঠে।

২০০২, কোরিয়া-জাপান

বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার সাথে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয়বার দেখা হয় এশিয়ায়। মানে কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে। এবারও একই গ্রুপে পড়ে দুই দল। ২ জুন ‘ই’ গ্রুপের খেলায় দারুণ লড়াই করে নাইজেরিয়া। গোল পেতে আর্জেন্টিনাকে অপেক্ষা করতে হয় ৬৩ মিনিট পর্যন্ত। সেদিন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার একমাত্র গোলে ১-০ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা। তবে ওই বিশ্বকাপে দুই দলই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল।

২০১০, দক্ষিণ আফ্রিকা

দুই দলের দ্বৈরথ এবার আফ্রিকায়। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে দুই দল পড়ে ‘বি’ গ্রুপে। ১২ জুনের ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে গোলটি করেন গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জ। এই গোলেই ১-০ গোলর জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেবার নাইজেরিয়া গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিলেও আর্জেন্টিনা চলে যায় কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত।

২০১৪, ব্রাজিল

উত্তর আমেরিকা, এশিয়া, আফ্রিকা ঘুরে এবার দুই দলের দ্বৈরথ গিয়ে ঠেকে লাতিন আমেরিকায়। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে। এবারও সেই গ্রুপপর্বে। ২৫ জুনের ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল যেন আহমেদ মুসা ও লিওনেল মেসির দ্বৈরথে। দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন মেসি। কিন্তু মেসিদের এই আনন্দ ৬০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান মুসা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় গোল করে দলকে আবার এগিয়ে দেন মেসি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে, ম্যাচের ৪৭ মিনিটে সেটি শোধ করে দলকে সমতায় ফেরান মুসা। কিন্তু এর ঠিক ৩ মিনিট পর, ম্যাচের ৫০ মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে জয় সূচক গোলটি করেন মার্কোস রজো। সেদিন ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। ওই বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয় সুপার ঈগলরা। আর আর্জেন্টিনা হয় রানার্স আপ।