সড়ক দুর্ঘটনার নেপথ্যে নানা প্রশ্ন উঠলেও কেন বন্ধ হচ্ছে না এই মৃত্যুফাঁদ?

 প্রতিবছর ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢল নামে মহাসড়কগুলোয়। আর সে সময়টায় সংবাদ মাধ্যমের শিরোণাম জুড়ে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনার খবর। গতকাল শনিবার সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের ৭ জেলাতে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হরিয়েছে। গেলো কয়েক বছরে এমন পরিসংখ্যান ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এসব দুর্ঘটনার পিছনে সড়ক পরিস্থিতি, পরিবহনের ফিটনেস, চালকের দক্ষতা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও আদৌতে কোনো বারই এই মৃত্যু ফাঁদ বন্ধ হয়নি।

এ বিষয়ে বিবিসি বাংলা কথা বলেছিলেন, বাংলাদেশ এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মোজাম্মেল হোসাইনের সাথে।

তিনি বলেন, ঈদের মৌসুমে বাস চালক যারা রয়েছেন তাদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে বাসের ট্রিপ বেশি দিতে হয়। যার কারণে বিনা বিশ্রামের ফলে চালকরা বাস চলা অবস্থায় কোনো গাড়িকে অতিক্রম করতে পারে না। আর এখানে এই বিষয়টা কারোরি চোখে পড়ে না। আবার একজন চালক যখন কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে বাস চালায় তখন তারা দ্রুত গতির কারণে দুর্ঘটনার ঘটনাগুলো ঘটে থাকে। আর এখানে এই কারণটাই ঈদের ষষ্ঠ দিনে এসে দেখা গেলো।

এখানে চালকদেরকে বিশ্রামের সময় দেয়া হচ্ছে না। আর এই দায়টা কাদের? বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে যারা বাসের মালিক রয়েছেন তাদেরকেই এই দায়টা নিতে হবে। একটি বাস কোনো গন্তব্যে যাওয়ার পূর্বে একজন মালিকের দায়িত্ব হবে ঐ গাড়ির চালকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা যাচাই করা। একই সাথে সরকার পক্ষেরও একটা দায়িত্ব আছে তা হচ্ছে প্রতিটা বাস ছাড়ার আগে গাড়ির চালকদের পরীক্ষা করা। তার মানে হচ্ছে একজন চালক কত ঘণ্টা কাজ করেছে বা এখন সে কোনো গন্তব্যে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি ফিট কি না সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখা। আর এই দায়িত্বটা দুই পক্ষেরই নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের দেশে এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আর এই সম্যাগুলোর কারণে আমাদের দেশে দুর্ঘটনাগুলো হচ্ছে।

আমাদের বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যেসব আইন রয়েছে এগুলো কি যথেষ্ট? বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কাউকে কোনো শাস্তিও দিতে পারেননি আর এ ধরণের দুর্ঘটনার ঘটনা যখন ঘটে যায় তখন তার কবে বিচার হবে সে ব্যাপারে কোনো গুরুত্ব দেয়া হয় না। আমরা বাইরের দেশগুলোতে তাকালে দেখতে পারবো সেখানে বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার রাডার ব্যাবহার করা হয় হাইওয়েতে। সেখানে কেউ কোনো ভুল করলেই তাদেরকে শাস্তি পেতে হয়। আর আমাদের দেশে যে ব্যবস্থা রয়েছে সেগুলো অত্যন্ত নড়বড়ে।

বাংলাদেশে যে পরিমাণ মানুষ রয়েছে এখানে কি এসব মনিটরিংটা করা সম্ভব? বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই সম্ভব। সে অনুযায়ী আমরা বছরখানেক আগে সরকারের কাছে প্রস্তাবও দিয়ে রেখেছি। বাহিরের দেশে যেসব প্রযুক্তিগুলো রয়েছে সেগুলো আমাদের দেশে থাকলে ভরসা করা যাবে। কোনো মেনুয়্যাল সিস্টেম প্রয়োগ করলে কিন্তু এখানে ভরসা করা যাবে না। আমাদের দেশে হাইওয়ের রাস্তাগুলোতে যদি ১০ হাজার পুলিশও মোতায়েন করা হয় তাহলেও এর সমাধান সম্ভব নয়। এটা একমাত্র ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমেই এই চালকদের ওভারটেক বন্ধ করা সম্ভব। আর এটা হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে।