সৌদির রাস্তায় গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে নারীরা

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর গাড়ি চালানোর অনুমতি পেলেন সৌদি আরবের নারীরা। এবার তারা স্বাধীনভাবেই রাস্তায় গাড়ি চালানো উপভোগ করবেন। গত সেপ্টেম্বরেই নারীদের ওপর থেকে গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। এরপর চলতি মাসের শুরুতেই নারীদের প্রথমবারের মতো ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া শুরু হয়।

সৌদিই একমাত্র দেশ যেখানে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়া হতো না। এমনকি পরিবারের পুরুষরা নারীদের যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগতভাবে গাড়ি চালক নিয়োগ করতেন। পুরুষ অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়া নারীরা কোথাও স্বাধীনভাবে চলাফেরারও অনুমতি পান না। তবে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়া হলেও নারীরা তাদের পরিবারের পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কোথাও ভ্রমণ করতে পারবে না এমনি বিয়ে বা বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমতিও পাবেন না।

এদিকে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, আগামী সপ্তাহে লাইসেন্স দেয়া হবে আরও দু’হাজার নারীকে। দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকরে, সোমবার লাইসেন্স দেয়া শুরু করে জেনারেল ট্রাফিক ডিরেক্টোরেট। ২৪ জুন থেকে সৌদি আরবের রাজপথে চালকের আসনে দেখা যাবে নারীদের। গেলো সেপ্টেম্বরে ডিক্রি জারি করে দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা তুলে দেন, সৌদি বাদশাহ সালমান।

১৯৯০ সালে রিয়াদে গাড়ি চালানোর অপরাধে বহু নারীকে আটক করা হয়। ২০০৮, ২০১১ এবং ২০১৪ সালে বহু নারী গাড়ি চালানোর বেশ কিছু ভিডিও প্রচার করা শুরু করেন। গাড়ি চালাতে পারার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এক সৌদি নারী জানান, এটা সৌদির প্রতিটি নারীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।