ধামরাইয়ে যশোমাধবের রথযাত্রা উদ্বোধন নিয়ে দুই পক্ষের প্রস্তুতি

ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী যশোমাধবের রথযাত্রা উৎসব উদ্বোধন ও রথমেলার ইজারা নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া পৌর এলাকার অভ্যন্তরে রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পৌর মেয়রকে এবছর অতিথি করা হবে কিনা এ নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জনও উঠেছে। এদিকে প্রায় একযুগ ধরে বর্তমান কমিটি মাধব মন্দির, রথাযাত্রা ও রথমেলা পরিচালনা করে আসছে। তারা মাসব্যাপী রথমেলা ইজারা দিয়ে লাখ লাখ হাতিয়ে নিয়েছে। অপরদিকে যশোমাধব জিউ বিগ্রহ দেবোত্তর এষ্টেটের অংশীদাররা আদালত থেকে ডিক্রি নিয়ে তারাও এবার রথযাত্রা উৎসব উদযাপন করার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

এনিয়ে উভয় পক্ষই প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন যাতে নিজনিজ পক্ষ রথযাত্রা উৎসব ও রথ মেলা পরিচালনা করতে পারে। এ নিয়ে চলছে চাপা উত্তেজনা। এ বিষয়ে কায়েতপাড়ার শহীদ বুদ্ধিজীবী দীনেশ রায় মৌলিকের ছেলে শ্রী শ্রী যশোমাধব জিউ বিগ্রহ দেবোত্তর এস্টেট কায়েতপাড়ার ১০ আনা হিস্যার সাধারণ সম্পাদক দেবেশ রায় মৌলিক বলেন, ‘বহু বছর ধরে আমাদের বাদ রেখে একটি পক্ষ রথযাত্রা উৎসব ও রথমেলা ইজারা দিয়ে আসছে। আমরা ধামরাই (১০ম) সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ১৪৫/১৩ ইং স্থিরিকৃত ১০ আনা হিস্যার ডিক্রি পেয়েছি। ফলে এবছর মাধব মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে রথযাত্রা ও রথমেলা পরিচালনা করার প্রস্তুতি নিয়েছি’। তবে বর্তমান কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অবঃ) জীবন কানাই দাস ১০ আনা হিস্যার সাধারণ সম্পাদক দেবেশ রায় মৌলিক গংদের আদালত থেকে ডিক্রির বিষয়টি সম্পর্কে বলেন,একটি পক্ষ সবসময়ই বিরোধিতা করে আসছে। আমরা তাদেরও ডেকেছি। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রথযাত্রা উৎসব উদযাপন করার প্রস্তুতি নিয়েছি। অতিথিও ঠিক করা হচ্ছে’।

পৌরসভার মেয়র গোলাম কবির মোল্লা বলেন, ১০ আনা হিস্যার ডিক্রির কাগজপত্র ও কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা আমার কার্যালয়ে দিয়েছে। উভয়পক্ষ রথ উদযাপনের জন্য সহযোগিতা চেয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও রথযাত্রা উৎসবে আমি সহযোগিতা করবো’।

আগামী ১৪ জুলাই রথযাত্রা উৎসব উদ্বোধন করা হবে। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের দ্বিতীয়া শুক্লাতিথিতে উপমহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রী শ্রী যাশোমাধবের রথযাত্রা উদযাপিত হয়ে থাকে। এতে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটে উৎসবের প্রথম দিনে।

উল্লেখ্য, গতবছর স্থানীয় এমপির নিষেধ থাকায় পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম কবিরকে অতিথি করেনি রথযাত্রা উৎসব উদযাপন পরিষদ। এনিয়ে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে উদ্বোধন নিয়ে ব্যাপক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ রথযাত্রা উদযাপন পরিষদকে। এক পর্যায়ে একটি পক্ষের ইন্ধনে মেয়রের অপসারণ চেয়ে একাধিকবার মিছিল-মিটিং হয়েছে। এমনকি মামলাও হয়েছে।