কি আছে এরদোগানের ভাগ্যে?

ফুলকি অনলাইন: রোববার তুরস্কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। তুরস্কের ইতিহাসে এবারই প্রথম এই দুই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ একই সাথে হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি ভোটার এক লাখ আশি হাজার ব্যালটবক্সে ভোট প্রদান করছে।

প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ান দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় থাকবেন কিনা তা নির্ধারিত হবে এই নির্বাচনে। তিনি চাইবেন তার দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি সামগ্রিক ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে সরকার গঠন করতে।

কিন্তু এরদোয়ানের প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান পিপলস পার্টি মুহাররেম ইনসের তুমুল প্রচারণার কারনে তার এসব লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে। নির্বাচনে এই দুই জনের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে জিতলে এরদোয়ান নতুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী হবেন এবং গণতন্ত্র বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা হবে।

২০১৬ সালের একটি ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে তুরস্কে জরুরী অবস্থা চলছে।

চলমান নির্বাচনটি ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এরদোয়ান তা এগিয়ে নিয়ে আসেন।

পুনর্বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে এরদোয়ান মন্ত্রী ও ভাইস প্রেসিডেন্টসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি নিয়োগ দিতে পারবেন। একই সাথে তিনি দেশের আইনি ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা ও জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতা পাবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করতে পারবেন তিনি।

গতকাল শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারনায় এরদোয়ান ও মুহাররেম দুজনই বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

মুহাররেম সমবেত প্রায় ১০ লাখ মানুষকে বলেন, ‘এরদোয়ান জিতলে আপনাদের ফোনে আড়িপাতা চলতেই থাকবে। ভীতি শাসন করেই যাবে। ইনসে জিতলে আদালত স্বাধীন হবে।’

অন্যদিকে, এরদোয়ান তার জনসমাবেশে সাবেক শিক্ষক ও সংসদ সদস্য মুহাররেম ইনসের অনভিজ্ঞতার প্রতি ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হওয়া এক জিনিস, আর দেশ চালানো আরেক জিনিস। প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য অভিজ্ঞতা দরকার।’

নির্বাচনে ছয়জন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রয়েছেন। কেউ যদি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পান, তিনিই প্রেসিডেন্ট হবেন। তবে কেউই যদি ৫০ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করতে না পারেন, ৮ জুলাই দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের তুরস্কের নির্বাচন মূলত দুটি জোটে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটি পিপলস অ্যালায়েন্স। এখানে আছে এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি ও গ্রেট ইউনিটি পার্টি। অপরটি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স। এছাড়া চারটি দল আছে- শক্তিশালী রিপাবলিকান পিপলস পার্টি, ফ্যালিসিটি পার্টি, আই পার্টি ও ডেমোক্রেটিক পার্টি।

এরদোগান পিপলস অ্যালায়েন্সের একক প্রার্থী। কিন্তু, অন্যরা নিজ নিজ দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।