মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে নতুন পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র!

ফুলকি অনলাইন: যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভৌগোলিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার জন্য কয়েকটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি।

যুক্তরাষ্ট্র এ পরিকল্পনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে ভৌগোলিক সীমানায় গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত ১৩তম ভৌগোলিক সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে মার্কিন পরিকল্পনার নানা দিক তুলে ধরতে গিয়ে জেনারেল আমির হাতামি এ কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, সাইক্স পিকো’ পাশ্চাত্যের এমন একটি চুক্তি বা পরিকল্পনা যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দখলদারিত্ব, সম্প্রসারণকামিতা ও উপনিবেশবাদ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে খণ্ড-বিখণ্ড করার মার্কিন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও শোষণের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করার পরিকল্পনা করেছে আমেরিকা।

২০১৩ সালের শেষের দিকে মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, পাঁচটি আরব দেশকে ভেঙে ১৪টি ছোট ছোট দেশ গঠন করা হবে।

বর্তমানে বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে ব্যবহার করে আঞ্চলিক জোট গঠনের মাধ্যমে তার ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্তানে মার্কিন হামলা এবং এরপর ইরাকে আগ্রাসন এ লক্ষ্যেই করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করে থাকেন।

এ থেকে বোঝা যায় আমেরিকা বিভিন্ন দেশ দখলের মাধ্যমে তার দীর্ঘ মেয়াদির ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সন্ত্রাসী লেলিয়ে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে গোলযোগ সৃষ্টি এবং এ অঞ্চলে প্রক্সিযুদ্ধ ছড়িয়ে দেয়ার পেছনে মার্কিন ভূমিকা থেকে তাদের অসৎ উদ্দেশ্যের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দায়েশ, আল কায়দাসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টি করে ও তাদেরকে সব রকম সহায়তা দিয়ে আমেরিকা এ অঞ্চলের দেশগুলোকে খণ্ড-বিখণ্ড করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘সাইক্স-পিকো’ চুক্তি বা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা বলে মনে করছেন।

সুদানকে দুই অংশে বিভক্ত করা, লিবিয়ায় হামলা, দায়েশ সন্ত্রাসীদের দখলদারিত্বের সময় ইরাক ও সিরিয়াকে ভেঙে টুকরো টুকরো করার চেষ্টা, সৌদি আরবের সহায়তায় ইয়েমেনে আগ্রাসন এসবই আমেরিকার ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ। বর্তমানে এ পরিকল্পনার নাম দেয়া হয়েছে ‘গ্রেটার মিডিলইস্ট প্ল্যান’ বা ‘বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলে ভৌগোলিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার যে চেষ্টা আমেরিকা করছে তা এমন এক শোষণমূলক পরিকল্পনা যা এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোতে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাশাপাশি জাতিগুলোর পরিচিতি ধ্বংস করে দেবে।

এ কারণে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, “এ অঞ্চলের কোনো কোনো দেশের ধারণা আমেরিকার সঙ্গে মিলেমিশে থাকলেই তারা ওই পরিকল্পনার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রেহাই পাবে।”

বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকা এবং ব্রিটেনসহ অন্যান্য মিত্র দেশ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ধর্ম, গোত্র ও জাতিয়তার ভিত্তিতে বিভক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে যার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

এসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে এ অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য পাকাপোক্ত করা। আমেরিকার আরেকটি লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে দখলদার ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।