কাশ্মীরে ফের কেন্দ্রীয় শাসন

ফুলকি অনলাইন: মঙ্গলবার ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যটিতে আবারো কেন্দ্রীয় শাসন জারি করা হয়েছে। ১৯৭৭ সালের পর জম্মু ও কাশ্মীরে এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো কেন্দ্রীয় শাসন জারি করা হলো।

মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরে ক্ষমতাসীন জোট ছেড়ে দেয় বিজেপি। বিজেপির এই ঘোষণার পর একইদিন বিকালেই পদত্যাগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। পদত্যাগের পর মেহবুবা বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরকে শত্রু এলাকা হিসেবে বিবেচনা করতে পারি না আমরা। মিটমাটের পথই সমস্যা সমাধানের মূল চাবি।

মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির পদত্যাগের পরই বিতর্কিত এই অঞ্চলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় প্রেসিডেন্টের মনোনীত গভর্নর এনএন ভোহরার হাতে। এখন থেকে পরবর্তী কোয়ালিশন সরকার বা নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগ পর্যন্ত তিনিই অঞ্চলটি শাসন করবেন।

এর আগে কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল পিডিএফের সঙ্গে কোয়ালিশন ছিন্ন করে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। এরপর গত মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মেহবুবা মুফতি। বিজেপি জানায়, তিন বছরের জোট ভাঙ্গতে তারা বাধ্য হচ্ছেন।

কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এই অঞ্চলে ব্যাপকহারে সহিংসতা বাড়তে থাকায় মেহবুবা মুফতির সঙ্গে তারা জোট ধরে রাখতে রাজি নয়।

এদিকে এক বিবৃতিতে বিজেপি জানায়, কাশ্মীরের প্রভাবশালী সাংবাদিক সুজাট বুখারির হত্যার ঘটনায় বিজেপি ও মেহবুবা মুফতির মধ্যে ফাটল ধরে। এর জের ধরেই বিজেপি মেহবুবা মুফতির কাছ থেকে শাসন ক্ষমতা কেড়ে নিতে কোয়ালিশন ভেঙ্গে দেয়। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের পক্ষে এখন থেকে এনএন ভোহরা রাজ্য শাসন করবে।

জম্মু ও কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় শাসন জারির জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিবেদন পাঠান রাজ্যপাল এনএন ভোরা। এই প্রতিবেদনে সাড়া দিয়ে রাজ্যটিতে কেন্দ্রীয় শাসন জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন গভর্নর। এই মুহূর্তে নিরাপত্তাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারও প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে। আগামী কয়েকদিনে কাশ্মিরে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান আরো জোরালো হতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংও সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে রমজান উপলক্ষ্যে চলা অস্ত্রবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না। রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা এসপি ভায়েদ বলেন, ‘অভিযান চলবে।

শুধুমাত্র অস্ত্রবিরতির সময় আমরা অভিযান চালাইনি। সন্ত্রাসীরা ঠিকই হামলা চালিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে অভিযান জোরালো হবে আরও। আর এবার কাজ করা আরো সহজ হবে।’

রমজানে মেহবুবা মুফতির দেওয়া অস্ত্রবিরতির প্রস্তাবকে শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে রাজনাথ সিংয়ের দাবি, এতে করে পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠী হামলা চালানোর সুযোগ পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার তাই অস্ত্রবিরতি বাড়াতে চায়নি। অস্ত্রবিরতি চলাকালীন অবস্থাতেই সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দ্য রাইজিং কাশ্মির পত্রিকার সম্পাদক সুজাত বুখারি। সেই হামলার কারণেই অস্ত্রবিরতি ভঙ্গ করা হয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের।

গত তিন বছর ধরে কাশ্মিরে বিজেপি-পিডিপি জোট সরকারের শাসন চলছে। তবে বুরহান ওয়ানির হত্যা, কাঠুয়ায় আট বছরের শিশুর ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর অনেক বিষয় নিয়েই জোটের দুই দলের মতবিভেদ চলছিল।